জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের জন্য পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের পেছনে ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সামনের জঙ্গল থেকে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টায় ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে গাছ উপড়ে ফেলার স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা, ‘অবিলম্বে মাস্টারপ্ল্যান, প্রণয়ন করো করতে হবে’, ‘একই বৃন্তে তিনটি ফুল, ফারজানা নূরুল কামরুল’, ‘রাতের আঁধারে গাছ কাটে, ভিসি করি করে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নূর-এ তামিম স্রোত বলেন, সাবেক দুই উপাচার্যের সময় থেকে আমরা বরাবরই একই কথা বলে আসছি, আপনারা যতো উন্নয়ন করেন কিন্থ সেটা পরিকল্পিতভাবে করেন। আপনারা এতো বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো এতো শিক্ষার্থী, হল, ডিপার্টমেন্ট তারা কীভাবে চলবে, তারা কীভাবে পড়াশোনা করবে সবকিছু একটা মহাপরিকল্পনামাফিক করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের বিভিন্নভাবে পিটিয়ে, হুমকি দিয়ে, ক্যাম্পাসে তাড়া দিয়ে, হলে থাকতে না দিয়ে আমাদেরকে এই আন্দোলন থেকে ব্যাহত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমাদের আশা ছিল নতুন যে প্রশাসন আসবে সেই প্রশাসন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যুনতম যে প্রয়োজন অ্যাডেমিক মাস্টারপ্লান, ন্যুনতম আবাসিক মাস্টারপ্লান প্রণয়ন করে তারা তাদের শিক্ষকদের যে ভয়াবহ রাজনীতি, টাকার খেলা, যে ক্ষমতার খেলা এগুলো থেকে তাদের একটু হলেও বুক কাঁপবে। অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রশাসনকে আমরা একরাশ আশা নিয়ে দফায় দফায়, অসংখ্য চিঠি দিয়েছি কিন্তু আমাদের চিঠির পাত্তা দেওয়া হয়নি। আইবিএ ভবনের গাছ কাটার সময় সাবেক ভিসিও বলেছিলেন তিনি জানেন না।
এ শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমান ভিসি কামরুল তখন বলেছিলেন— ‘ক্যাম্পাসে যদি একটা গাছের পাতাও পড়ে সেটি ভিসির অগোচরে পড়তে পারেনা।’ অথচ আজকে সকালে একজন ভিসি কতটা নির্লজ্জ হলে কতটা অপদার্থ হলে বলতে পারে, গাছ কাটার বিষয়ে আমি জানতাম না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন ঢুকিয়ে গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে আর সেটি জানতেন না ভিসি দুপুর পর্যন্ত। কতটা নির্লজ্জ, মেরুদণ্ডহীন হইলে একজন ভিসি এসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সামনে এমন কথা বলতে পারে তা আমরা কল্পনা করতে পারিনা।
এর আগে, আজ ভোর ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণের জন্য পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পিছনে ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সামনের জঙ্গল থেকে অর্ধশতাধিক গাছ উপড়ে ফেলা হয়।