জনসংখ্যা হ্রাস ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

একসময় বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘বোমা’র মতো দেখা হতো যা বিস্ফোরিত হলে খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য ও পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। এখন ঠিক তার উল্টো যেন। এ নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

একটা সময় ছিল, যখন মানুষ ছিল ভয়। না, কোনো কাল্পনিক ভাম্পায়ার বা দৈত্য নয় আক্ষরিক অর্থেই মানুষ। যত বেশি মানুষ, তত বেশি ক্ষুধার্ত মুখ, তত বেশি গাদাগাদি, আর তত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে এই গ্রহের রসদ। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়টা যেন ছিল মানুষের বিরুদ্ধে মানুষে ভরা এক অলিখিত যুদ্ধকাল। তখনকার অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ আর নীতিনির্ধারকরা বলতেন এই পৃথিবী মানুষ বহনের ক্ষমতা হারাচ্ছে। ‘চড়ঢ়ঁষধঃরড়হ ঊীঢ়ষড়ংরড়হ’ এই কথাটাই ছিল সবচেয়ে পরিচিত আতঙ্ক। সবখানে আওয়াজ উঠল ‘নিয়ন্ত্রণ করো, নইলে ধ্বংস অনিবার্য!’ এই সংকট মোকাবিলায় শুরু হলো এক বৈশ্বিক অভিযান। পরিবার পরিকল্পনার ঝা-া হাতে দেশের পর দেশ নামল মাঠে। দেয়ালে দেয়ালে লেখা হতে লাগল ‘দুটি সন্তানই যথেষ্ট।’

‘একটি ছেলে, একটি মেয়ে আদর্শ পরিবার।’

চীন তো আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করল। সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা, চাকরি হারানো, এমনকি গর্ভপাত বাধ্যতামূলক! ভারতের মতো দেশে নারীদের গোপনে বন্ধ্যা করে দেওয়া হতো। বাংলাদেশেও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ল প্রত্যন্ত গ্রামে।

একটি সন্তান জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেই আসে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ ‘পরেরটা দু’বছর পর!’ জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ইনজেকশন, কনডম সব কিছু বিনা পয়সায় হাতে হাতে পৌঁছে যেত। জনসংখ্যাকে যেন এক মহাশত্রু ভাবা হচ্ছিল। অথচ তখনকার মানুষ ভাবতেও পারেনি, এই দানব একদিন নিজেই হারিয়ে যাবে।

সেই ভয় কোথায় গেল

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে সেই ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ নামক আতঙ্কটা কেমন যেন এক রূপকথার মতো শোনায়। আজকের বাস্তবতা হলো: মানুষ বেশি হচ্ছে না, বরং কমে যাচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আজ গড় জন্মহার মাত্র ০.৭২ মানে একজোড়া বাবা-মা মিলেও গড়ে একটা সন্তান নিচ্ছেন না। চীনে হার ১.০৫, জাপানে ১.৩, ইতালিতে ১.২, স্পেনে ১.১। এমনকি জনবহুল দেশ ভারতেও এই হার এখন ২.০-এর নিচে। বাংলাদেশে সেটা নেমে এসেছে ১.৯-এ। এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি এই হার চলতেই থাকে, তাহলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়বে না, বরং কমে আসবে। জাতিসংঘ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে: ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বজনসংখ্যা থেমে যাবে এবং তারপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতের পৃথিবী হবে এমন একটি সমাজ যেখানে বৃদ্ধের সংখ্যা শিশুদের চেয়ে বেশি হবে। যেখানে বিদ্যালয় থাকবে, ছাত্র থাকবে না। থাকবে হাসপাতাল, কিন্তু ডাক্তারদের অভাব হবে। অর্থাৎ, এক সময়ের সেই জনসংখ্যা দানব এখন উল্টো একটা ভূতের মতো করে গিলে খাচ্ছে সভ্যতাকে চুপচাপ, ধীরে, নিঃশব্দে।

সন্তান না নেওয়ার পেছনের গল্পগুলো

মানুষ কেন সন্তান নিচ্ছে না? এর উত্তর যেমন সহজ, তেমনি গভীর। বেশিরভাগ উন্নত ও মধ্যআয়ের দেশে আজ ‘সন্তান’ বিষয়টি আর বাধ্যতামূলক সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত, শহুরে জীবনের চাপ একটি বাচ্চার স্কুল ফি, কোচিং, খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের শিক্ষা সবকিছু মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় হাজার হাজার ডলারে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভাবে ‘দুইটা কেন? একটা সন্তানই সামলানো দায়!’

তৃতীয়ত, মানুষের মানসিক ক্লান্তি। বহু মানুষই আজ উদ্বিগ্ন, উদ্বাস্তু, উদ্বেল। তারা নিজের জীবনেই দিশেহারা। ‘আমি কি ভালোভাবে বাঁচছি?’ এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনো। তার ওপর নতুন একটি জীবন আনা মানে দ্বিগুণ দায়। কেউ কেউ বলেন, ‘এই কঠিন পৃথিবীতে আমি আর কাউকে আনতে চাই না।’

চতুর্থত, সমাজের বদলে যাওয়া দর্শন। আগে সন্তান জন্ম দেওয়া ছিল ধারাবাহিকতা। ব্যক্তি স্বাধীনতা, পছন্দ, জীবন উপভোগ এই ভাবনা ছাপিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক চিন্তা।

সব মিলিয়ে, সন্তান এখন একটি বড়সড় সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্তের গন্তব্য বহু ক্ষেত্রেই হচ্ছে ‘না’।

হ্রাস পাওয়া মানুষের সমাজ

একটা সমাজ কেমন হয়, যখন সেখানে শিশুদের হাহাকার শোনা যায় না? যখন সেখানে বার্ধক্যই ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে? যেমন জাপান।

জাপানে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখন ৬৫ বছরের ওপরে। স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কারণ ছাত্র নেই। শহরের রাস্তায় রোবট গাইড বসানো হচ্ছে, কারণ কর্মী নেই। নার্সিং হোমগুলো ভর্তি বৃদ্ধে, যাদের দেখাশোনা করছেন তারাও প্রায় বৃদ্ধ।

কোরিয়ায় এখন পরিবার মানেই বাবা-মা আর এক শিশু (তাও যদি থাকে)। সরকার টাকা দিয়ে, কর ছাড় দিয়ে, এমনকি ডেটিং অ্যাপ বানিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে ‘বিয়ে করো, সন্তান নাও।’

ইউরোপের বহু দেশে শিশুর জন্মদিনে সরকার বোনাস দেয়। ফ্রান্সে, জার্মানিতে বাবা-মায়ের দুজনের জন্য ছুটি রাখা হয়েছে। তারপরও মানুষ সাড়া দিচ্ছে না। এত সব উদ্যোগ সত্ত্বেও জন্মহার বাড়ছে না কারণ সমস্যাটা গভীরে। সামাজিক কাঠামো বদলেছে, জীবনের গতি বদলেছে, মানুষের ভাবনা বদলেছে।

এভাবে যদি চলতে থাকে, আগামী কয়েক দশকে : চাকরির বাজারে কমবে তরুণ। নতুন উদ্ভাবন ও সাহসী উদ্যোগ হ্রাস পাবে। বয়স্কদের সেবার ব্যয় বাড়বে। পেনশন ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে। অর্থনীতি হারাবে গতি। মানুষের অভাবে শুধু জনসংখ্যা নয়, থমকে যাবে উন্নয়নের চাকা। অনেকেই বলেন, ‘ভালোই তো! মানুষ কমে গেলে তো পৃথিবী বাঁচবে!’

বস্তুত, এ যুক্তি একেবারে ভুল নয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কার্বন নিঃসরণ, বন উজাড়, জলের সংকট, পশুপাখির বিলুপ্তি। মানুষ কমে গেলে এই চাপ কমবে। পৃথিবী কিছুটা স্বস্তি পাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো মানুষ না থাকলে কীসের জন্য পৃথিবী?

পরিবেশ ভালো থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেখানে থাকবে না মানুষ, তার কল্পনা, তার ভালোবাসা, তার সংস্কৃতি। সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা শুধুই পরিবেশগত নয়, একটা নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে : আমরা কি সন্তান না নেওয়ার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব এড়াচ্ছি? আমরা কি ভয় পাচ্ছি ভবিষ্যতের পৃথিবীকে? আমরা কি দুনিয়ার সব সমস্যার বোঝা পরবর্তী প্রজন্মকে না দিয়েই সমস্যার সমাধান ভাবছি?

এই প্রশ্নগুলো আজকের মানুষের মনে আঘাত করে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে এক ধরনের ‘ঊীরংঃবহঃরধষ ঈৎরংরং’ কাজ করছে এই দুনিয়া কি থাকার মতো? জন্ম দেওয়া কি নিষ্ঠুরতা? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তবে একথা স্পষ্ট জনসংখ্যা হ্রাস কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের মূল্যবোধ ও ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

যেখানে আগে মানুষকে সন্তান না নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো, এখন বিশ্ব জুড়ে চলছে সন্তান হওয়ার উৎসাহ। কিন্তু সন্তান নেওয়া তো আর শুধু রাষ্ট্রীয় আহ্বানে হয় না। তবুও সরকারগুলো যা পারছে করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার প্রতিটি শিশুর জন্মে নগদ অর্থ প্রদান করে। ২০২৪ সালে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১০,০০০ মার্কিন ডলারের সমান! এছাড়া নবদম্পতির জন্য কম সুদে লোন, সস্তায় বাসস্থান, দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয়।

সিঙ্গাপুর চালু করেছে ‘বেবি বোনাস স্কিম’, যেখানে প্রতিটি সন্তানের জন্য দেওয়া হয় নগদ অনুদান, বাচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ভাতা, এমনকি শিশুর যতœ নেওয়ার জন্য কর্মজীবী মাকে দেওয়া হয় অতিরিক্ত ছুটি। জাপান সরকারের তরফে শিশুর শিক্ষার খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগে নানা বাধা থাকায় সেখানে জন্মহার বাড়ছে না। ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি এসব দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ‘পারিবারিক নীতিমালা’ কার্যকর। মা-বাবা দুজনের জন্য সন্তান জন্মের পর ছুটি, শিশু যতœ কেন্দ্র, কর ছাড় সবই রয়েছে। এর ফলে কিছুটা জন্মহার ধরে রাখা গেছে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ শুধু টাকার জন্য সন্তান নেয় না। পরিবার গঠন করতে চাইলে দরকার নিরাপদ সমাজ, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং মানসিক প্রস্তুতি। আর এই জায়গায় গিয়ে আধুনিক সমাজ ধাক্কা খাচ্ছে।

অভিবাসন হবে ভবিষ্যতের রক্ষাকবচ

জন্মহার যখন কমে, তখন তার সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান হতে পারে অভিবাসন। বিশ্বের যেসব দেশে জনসংখ্যা কমছে, তারা এখন নতুন করে অভিবাসনকে স্বাগত জানাচ্ছে। কানাডা প্রতি বছর কয়েক লাখ দক্ষ অভিবাসী নিচ্ছে। জার্মানি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে শ্রমিক নিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসী শিক্ষার্থীদের স্থায়ী হওয়ার পথ খুলে দিচ্ছে। এই অভিবাসীরা তরুণ, কর্মক্ষম, কর্মপ্রবণ। তারা কাজ করে, আয় করে, কর দেয়, বাচ্চা জন্ম দেয়, স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করে।

তবে এই অভিবাসন নিয়েও আছে ভয়ের রাজনীতি। অনেক দেশের জনগণ মনে করে, ‘বিদেশিরা এলে আমাদের চাকরি কেড়ে নেবে।’ এর ফলে দক্ষিণপন্থি রাজনীতি চাঙ্গা হয়, সমাজে বিভক্তি তৈরি হয়।

তবুও, যদি আমরা বাস্তববাদী হই, তাহলে এ কথা মানতেই হবে অভিবাসন ছাড়া উন্নত দেশগুলোর সামনে ভবিষ্যৎ নেই। এটি বাংলাদেশের জন্যও বড় এক সুযোগ। বাংলাদেশ এখনো একটি তরুণ দেশ যেখানে ১৫-৩৫ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যদি এই তরুণ প্রজন্মকে ভাষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক জ্ঞান দেওয়া যায়, তাহলে তারা হয়ে উঠতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতির মূলচালক।

বাংলাদেশের জন্মহার এখন প্রায় ১.৯ যা ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট’-এর নিচে। এটি স্থিতিশীল সমাজের ইঙ্গিত দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বিপদের বার্তাও হতে পারে। শহরাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, বিবাহ বিলম্বিত হচ্ছে। বহু দম্পতি সন্তান নিচ্ছে না বা একটিতে সীমাবদ্ধ। ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্বাধীনতা বেড়েছে, যা পরিবার গঠনে প্রভাব ফেলছে।

গ্রামে এখনো সন্তান সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, কিন্তু শহরের সংস্কৃতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছরে বাংলাদেশও প্রবল বার্ধক্যমুখী সমাজে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশ চাইলে হতে পারে ভবিষ্যতের ‘মানব সম্পদের ভা-ার’। কিন্তু তা কেবল সম্ভব হবে, যদি আমরা সময় থাকতে প্রস্তুতি নিই।

সংখ্যা নয়, মানুষ চাই

শেষে এসে প্রশ্ন দাঁড়ায় এই পৃথিবীটা আসলে কাদের জন্য? এই গ্রহ শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, বাঁচার জন্য। মানুষের কল্পনা, আবেগ, ভাষা, গল্প, ভালোবাসা, চিৎকার, কান্না, গান এ সবই পৃথিবীর প্রাণ। যদি আমাদের চারপাশে শিশুদের কৌতূহলী চোখ না থাকে, চিত্রকলায় কাঁচা আঁকিবুঁকি না থাকে, প্রশ্নের ঝাঁক না থাকে, তাহলে এই সভ্যতা কেবল মরে যাবে নিঃশব্দে। সন্তান নেওয়া হোক না হোক, ভবিষ্যৎ গড়ার দায় কিন্তু আমাদের সবার। জন্ম নিয়ন্ত্রণের মতো, এখন দরকার এক নতুন সামাজিক সংস্কৃতি যেখানে মানুষ জন্ম নিতে চায়, কারণ সে জানে, এই পৃথিবী তার জন্য প্রস্তুত। আমরা যদি একটা পৃথিবী গড়তে পারি যেখানে জীবন উপভোগ্য, নিরাপদ, অর্থপূর্ণ তবে মানুষ নিশ্চয়ই আসবে। কোনো রাষ্ট্রীয় হুকুমে নয়, বরং নিজের ইচ্ছায়। আমরা যদি সত্যিই টিকে থাকতে চাই, তবে দরকার সংখ্যা নয় মানসম্পন্ন মানুষ।