ইউএসএইড ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনায় মৃত্যু ঝুঁকিতে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের বাজেট সংকোচন ও সংস্থাটি ভেঙে দেওয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনার ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে।

প্রভাবশালী চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ইউএসএইডের বাজেট উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে শুরু করেছে। যুক্তি হিসেবে তারা বলছে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসই এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ।

তবে মানবাধিকার কর্মী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ইউএসএইডের সহায়তা বহু দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল—বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে।

গত দুই দশকে ইউএসএইডের সহায়তায় পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতভিত্তিক কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি শিশু রয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান বাজেট ছাঁটাই ও ইউএসএইড বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হলে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে মৃত্যু হতে পারে আরও ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের, যার মধ্যে ৪৫ লাখের বেশি হবে পাঁচ বছরের নিচের শিশু।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক মানবিক সহায়তায় সবচেয়ে বড় দাতা রাষ্ট্র। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, বৈশ্বিক মানবিক তহবিলের ৩৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। শুধু গত বছরই দেশটি ৬১ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা দিয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি ইউএসএইডের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

দ্য ল্যানসেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে ইউএসএইডের বাজেটে যে ব্যাপক কাটছাঁট শুরু হয়েছে তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং পূর্বের সহায়তা ফিরে না আসে, তবে ২০৩০ সালের আগেই পৃথিবীকে বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে চলতি বছরের মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, মাত্র ছয় সপ্তাহের এক পর্যালোচনার ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইউএসএইডের ৮০ শতাংশ কর্মসূচি বাতিল করেছে। বাকি প্রায় এক হাজার প্রকল্প পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কাঠামোয় চালু রাখা হবে বলে জানান তিনি।