ইনজুরি আর পরাজয়ে ভরা একটি মৌসুম, চলতি বছরে ১৪ ম্যাচে জয় মাত্র তিনটি। উইম্বলডনের মেইন ড্র-তে সুযোগ পাওয়াটাই ছিল অনিশ্চিত। সেই পরিস্থিতিতে ৩৮ বছর বয়সে টেনিস দুনিয়াকে চমকে দিয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে আলো ছড়ালেন ইতালির ফ্যাবিও ফগনিনি।
প্রতিপক্ষ ছিলেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ—যিনি কদিন আগেই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে এসেছেন, সঙ্গে ছিল ১৮ ম্যাচের টানা জয়ের রেকর্ড। লক্ষ্য ছিল ‘চ্যানেল স্লাম’ (ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন একই বছরে জয়ের বিরল কীর্তি)। কিন্তু সেন্টার কোর্টে দুর্দান্ত লড়াইয়ে সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেন ফগনিনি।
উইম্বলডনের গরমে চার ঘণ্টা ৩৭ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ম্যাচের স্কোরলাইন: ৭-৫, ৬-৭(৫), ৭-৫, ২-৬, ৬-১—জিতলেন আলকারাজ, কিন্তু মুগ্ধ করলেন ফগনিনি। দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিলেন, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেন তার নাম ধরে। উন্মুক্ত যুগে এ নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নকে প্রথম রাউন্ডে খেলতে হলো পূর্ণ পাঁচ সেট।
ম্যাচ শেষে আবেগে ভাসা ফগনিনি বলেন, “আমি লকার রুমে কেঁদে ফেলেছি। বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে আলকারাজের সঙ্গে পাঁচ সেট খেলেছি। সত্যি বলতে, আমার কোনো প্রত্যাশা ছিল না। ইনজুরির পর নিজেকে নিয়ে ভীষণ অনিশ্চিত ছিলাম। মেইন ড্র-তেও জায়গা পেয়েছি শেষ মুহূর্তে। কিন্তু এই কোর্টে, এমন এক চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে খেলাটা ছিল স্বপ্নের মতো।”
আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় ম্যাচ শেষে। আলকারাজকে আলিঙ্গন করে ফগনিনি বলেন, “চার্লি, তোমার জার্সিটা কি দেবে? এটা আমার ছেলের জন্য—ফেদেরিকোর জন্য।”
ফগনিনির বড় ছেলে ফেদেরিকো একজন ঘোরতর অ্যালকারাজ-ভক্ত। ম্যাচের আগে ফগনিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, তিনি নাকি ছেলেকে আলকারাজের সঙ্গে দেখা করতে দেননি, যাতে অন্তত ম্যাচের দিন বাবার পক্ষেই সমর্থন দেয়! সেই ছেলে যেন মনে রাখে বাবার শেষ উইম্বলডন ম্যাচ—তাই স্মারক হিসেবে চাইলেন প্রিয় তারকার জার্সি।
আলকারাজ নিজেও মুগ্ধ ফগনিনির পারফরম্যান্সে। ম্যাচ শেষে বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না কেন এটা তার শেষ উইম্বলডন! যে লেভেলে সে আজ খেলেছে, তাতে আরও ৩-৪ বছর অনায়াসে খেলতে পারত। তার পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই দুর্দান্ত টেনিস উপহার দিয়েছে, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”