তারাবোর সাবেক মেয়রের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক মেয়র মো. মাহবুবুর রহমান খান ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা কে এম মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে ২৮৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার ঢাকা জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা জজ রুবায়েত ফেরদৌস দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, মাহবুবুর রহমান ও তার ছেলে ২০১৯ সালে রূপালী ব্যাংক থেকে ১৬৬ কোটি টাকার ঋণ নেন, যা বর্তমানে সুদসহ ২০৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, ২০১১ সালে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে তিন ধাপে মোট ১০৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার ঋণ নেন। এই ঋণের মধ্যে ৭৮ কোটি ৮৩ লাখ, ৩ কোটি ৩৬ লাখ এবং ২৭ কোটি টাকা রয়েছে। দুই ব্যাংক থেকে মোট ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, কাগজ ব্যবসায়ী মো. ইসহাক দুলালের কাছ থেকে ব্যবসায়িক লেনদেনে দুই দফায় ১১ কোটি ৩ হাজার টাকার ঋণ নেন তারা। এ ঘটনায় ইসহাক দুলাল দুটি মামলা দায়ের করেন। এই পরিবারের বিরুদ্ধে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক এবং রাজনৈতিক মামলাসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের টাকা পরিশোধ না করে তারা বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

সূত্র জানায়, আদালত এই মামলা পর্যালোচনা করে মাহবুবুর ও তার ছেলেকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেয়।

ইসহাক দুলাল অভিযোগ করেন, মাহবুব ও তার ছেলে সিয়াম স্থানীয় সাবেক মন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলা ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জসহ একাধিক থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার পতনের পর তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তিনি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।