মাটির চ্যাম্পিয়ন ঘাসে এসে হোঁচট, প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়

সেন্টার কোর্টে স্বপ্নভঙ্গের অশ্রু আর হতাশার দীর্ঘশ্বাসে শেষ হলো কোকো গফের উইম্বলডন অভিযান। গত মাসেই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে চ্যানেল স্লামের স্বপ্ন দেখছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছর বয়সী টেনিস সেনসেশন। কিন্তু উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডেই ৭৮ মিনিটে সরাসরি সেটে (৭–৬, ৬–১) হেরে গেলেন ইউক্রেনের দায়ানা ইসত্রেমেস্কার কাছে।

গফ নিজেই স্বীকার করেছেন, 'হ্যাঁ, এটা সত্যিই কষ্টদায়ক। আজ ঠিকভাবে কোর্টে উপস্থিতই হতে পারিনি মনে হচ্ছে।'

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গফের বিদায় যেমন অপ্রত্যাশিত, তেমনি বিস্ময়করও ছিল ইসত্রেমেস্কার আত্মবিশ্বাস। ম্যাচ শেষে হাসতে হাসতে ২৪ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় খেলোয়াড় বলেন, 'আমি জেতার সামান্যতম প্রত্যাশাও করিনি। কিন্তু আজ আমি সবকিছুই ঠিকঠাক করেছি।'

প্রথম সেটে কিছুটা লড়াই দিলেও টাইব্রেকে দুই ডাবল ফল্ট করে ছন্দ হারান গফ। দ্বিতীয় সেটে পুরোপুরি গুটিয়ে যান। সার্ভ, র‍্যালি কিংবা কৌশল—সব ক্ষেত্রেই একচেটিয়া দাপট দেখান ইসত্রেমেস্কা।

২০১৯ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে উইম্বলডনে ভেনাস উইলিয়ামসকে হারিয়ে চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছিলেন গফ। সেবার জয় করেছিলেন দর্শকের হৃদয়ও। পাঁচ বছর পর সেই দর্শকদের ভালোবাসা থাকলেও, খেলার ধার আর আগের মতো রইল না।

কেবল গফ নয়, উইম্বলডনের দ্বিতীয় দিনেই নারী এককে বিদায় নিয়েছেন আরও দুই শীর্ষ তারকা। তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলা মাত্র ৫৮ মিনিটে ৬–২, ৬–৩ গেমে হেরে যান ইতালির এলিসাবেত্তা কোচিয়ারেত্তোর কাছে। ম্যাচ শেষে পেগুলা বলেন, 'সে অসাধারণ খেলেছে। আমি খারাপ খেলিনি, তবু হেরে গেলাম। অনেক দিন পর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে হেরে গেলাম—এটা খুবই হতাশাজনক।'

বিদায় নিয়েছেন দুইবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন পেত্রা কেভিতোভাও। ৩৫ বছর বয়সী এই চেক তারকা ৬–৩, ৬–১ গেমে হেরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এমা নাভারোর কাছে। সন্তানের জন্মের পর কোর্টে ফেরা কেভিতোভার এটিই ছিল শেষ উইম্বলডন, অবসরের আগে এক বিদায়ী সালাম।