আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও ব্যাংক ও এসএমই খাতকে ঢেলে সাজানোর চলমান সংস্কার কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে তুলতে এবং গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে সংস্কারে গতি আনা হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর পুরান পল্টনে ‘এসএমই ফাউন্ডেশন-ইআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে কাজ চলছে। গ্রাহকদের ডিপোজিটের টাকা ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এসএমই খাতে অর্থায়নের বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে এখনও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ তাদের ঋণ পরিশোধের হার অনেক ভালো। ব্যাংকগুলো এখানে সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসএমই খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে হাতুড়ি-বাটালের দিন উঠে গেছে। উদ্যোক্তাদেরও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’ এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের এসএমই খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘নারীরা শুধু দক্ষই নয়, তারা অনেক সময় বেটার ম্যানেজও করে। তাই নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু বক্তৃতায় নয়, বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি এসএমই উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সমন্বিত ও ডিজিটাল ডেটাবেজ গঠনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘হার্ডকপিতে থাকলে হবে না। সবকিছুই ডিজিটালাইজড করতে হবে। সব ক্ষেত্রেই এখন প্রায়োরিটি ডিজিটাল সিস্টেম হওয়া উচিত।’
অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘এখন ব্যাংকের স্ট্রাকচারে ঝামেলা চলছে। তারপরও ৬০-৬২ হাজার কোটি টাকা আমরা এনার্জি খাতে দিয়ে দিচ্ছি। সেখানে এসএমই যেন কোনো বিষয়ই না। এটা পরিবর্তন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থের অপচয় রোধ করতেই হবে। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কর ব্যবস্থাতেও সুশাসন জরুরি। নেগেটিভ রিপোর্ট আমাদের বেকায়দায় ফেলে দেয়। এনবিআরের ক্ষেত্রেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।’
রেমিটেন্স প্রবাহকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।’