বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে ‘ড্রাফট টেলিকম নেটওয়ার্ক লাইসেন্সিং রিফর্ম পলিসি ২০২৫’ নামে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. মঈন খান বলেন, ‘সরকার হয়তো ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু আমরা জানি—এই নীতিমালাটি নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ কারণেই আমরা আজ হঠাৎ করে সাংবাদিকদের ডেকেছি। আপনাদের হয়তো কষ্ট হয়েছে, কিন্তু আমরা বাধ্য হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকের যুগে, যেখানে আইটি একটি নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এত বড় একটি বিষয়ের ওপর সরকার গোপনে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। অথচ যাঁরা ভোক্তা, অর্থাৎ ব্যবহারকারী—তাঁদের কোনো মত নেওয়া হয়নি। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসএমই খাত, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার যেভাবে খসড়া প্রস্তুত করেছে, তাতে এই খাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, সরকার একটি খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করেছে এবং আজকের সভায় তা অনুমোদন করে চূড়ান্ত নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে। আমরা যে কপি পেয়েছি, সেখানে স্পষ্টভাবে তিনটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে—বড় মোবাইল অপারেটররা বিশাল সুবিধা পাবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাড়তি সুযোগ পাবে এবং সাধারণ জনগণ, যাঁরা প্রকৃত সুবিধাভোগী হওয়ার কথা, তাঁরা উপেক্ষিত থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ, যারা এখনো সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট পায় না, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আজকের এআই প্রযুক্তির সুফল যদি সবার ঘরে না পৌঁছায়, তবে এই প্রযুক্তি শুধু কিছু গোষ্ঠীর জন্যই কাজে লাগবে। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। বিশেষজ্ঞরা থাকবেন, কিন্তু তাঁরা কেবল পলিসি অপশন দিতে পারেন। সিদ্ধান্ত নেবেন জনগণের প্রতিনিধি।’
ড. মঈন খান প্রশ্ন তোলেন, ‘যখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা তৈরি হয়, তখন কি সরকারের উচিত নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া? অথচ আমাদের জানামতে, সরকার এখনো কারও মতামত নেয়নি।’
প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতামত পেশ করেছি। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে কখনো আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এটা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।’
ছোট টেলিকম অপারেটরদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে এক প্রশ্নে ড. মঈন খান বলেন, ‘এই খাতটি হাইটেক প্রযুক্তির মধ্যে পড়ে, এবং এর প্রভাব সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরের মানুষের ওপরও পড়ে। কাজেই এটা শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটা একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি নীতিমালা, যার সুফল দেশের মানুষ পাবে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই—সবার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।’