দিয়োগো জোটা—যিনি ২৮ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন—ছিলেন একজন সহজাত গোলস্কোরার। গত কয়েক বছরে লিভারপুলের সাফল্যে এবং পর্তুগালের নেশনস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
জোটার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয় পর্তুগালের পাসোস দে ফেরেইরায়। সেখান থেকে ২০১৬ সালে যোগ দেন লা লিগায়, আতলেতিকো মাদ্রিদে। তবে প্রথম মৌসুমেই ধারে খেলে যান পোর্তোতে, যেখানে তার ভাই আন্দ্রে সিলভাও জুনিয়র পর্যায়ের খেলোয়াড় ছিলেন।
ইংল্যান্ডে জোটার যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে, আতলেতিকো থেকে ধারে উলভসের হয়ে। সেই মৌসুমে ৪৬ ম্যাচে ১৮ গোল করে চ্যাম্পিয়নশিপ জয় ও প্রিমিয়ার লিগে উলভসের ফেরার নায়ক হয়ে ওঠেন জোটা। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে উলভস তাকে স্থায়ীভাবে দলে নেয়। মোট ১৩১ ম্যাচে ৪৪ গোল করেন তিনি মলিনিউক্সে।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দিয়োগো জোটাকে লিভারপুলে নিয়ে আসর কারণ জানিয়েছিলেন লিভারপুল তখনকার কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ, “সে আমাদের স্কোয়াডে নানা পজিশনে খেলার অপশন এনে দেয়। মাত্র ২৩ বছর বয়সী, এখনও পূর্ণতা পায়নি—তবে তার মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।”
জোটার গতি, প্রেসিং, রক্ষণে সহযোগিতা এবং গোল করার নিখুঁত ক্ষমতা লিভারপুলকে দেয় নতুন মাত্রা।
২০২১-২২ মৌসুম ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা, ৫৫ ম্যাচে জোটা করেন ২১ গোল। সব মিলিয়ে লিভারপুলের হয়ে ১৮২ ম্যাচে ৬৫ গোল করেছেন তিনি। এমনকি গত মৌসুমেও ইনজুরির পর ফেরা জোটা গোল করেন নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে নামার কয়েক সেকেন্ড পরই। এরপর এভারটনের বিপক্ষে মরসিসাইড ডার্বিতে ‘জোটা-ম্যাজিক’ জয়সূচক গোল এনে দেন। সেই গোলটি ছিল তার খেলোয়াড়ি বুদ্ধিমত্তার প্রতীক—পেনাল্টি বক্সে দুইটি স্পর্শে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেছিলেন দারুণ এক ডান পায়ের শটে।
লিভারপুলে তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। ক্লপের অলআউট অ্যাটাকিং সিস্টেমে তিনি ছিলেন নিখুঁত ফিট। এমনকি কোচ আর্নে স্লটও তাকে প্রাধান্য দিতেন দারউইন নুনেজের ওপর। গত গত মৌসুমে তার অসাধারণ নৈপূন্যে লিভারপুল জেতে ২০তম লিগ শিরোপা।
দলের সুপারস্টার মোহাম্মদ সালাহ হয়তো শিরোনামে থাকতেন, কিন্তু জোটা ছিলেন নির্ভরতার নাম। তার গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষ রক্ষণের জন্য ছিল দুঃস্বপ্ন।
পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ৫০টির মতো ম্যাচ খেলেছেন জোটা। জুনে নেশনস লিগ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামেন তিনি। টাইব্রেকারে জয় পায় পর্তুগাল। একই মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে দুটি ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন জোটা।
জোটা ছিলেন সেই ধরনের খেলোয়াড়, যিনি মিডিয়ায় খুব বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও মাঠে নিজের কাজটা নিখুঁতভাবে করে যেতেন। সতীর্থদের মধ্যে ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়, সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত।
তার হঠাৎ মৃত্যু শুধু লিভারপুল নয়, গোটা ফুটবল দুনিয়ার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ক্লাব ক্যারিয়ার
লিভারপুল (২০২০–২০২৫): ১৯০ ম্যাচ, ৬১ গোল
উলভস (২০১৭–২০২০): ১৩১ ম্যাচ, ৪৪ গোল
পোর্তো (২০১৬–২০১৭, ধারে): ৪০ ম্যাচ, ২১ গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ (২০১৬–২০১৭): ১ ম্যাচ, ০ গোল
পাসোস দে ফেরেইরা (২০১৪–২০১৬): ৩৬ ম্যাচ, ১৫ গোল
মোট ক্লাব ক্যারিয়ার: ৩৯৮ ম্যাচ, ১৪১ গোল
জাতীয় দল ক্যারিয়ার
পর্তুগাল সিনিয়র দল: ৪৯ ম্যাচ, ১৪ গোল
অনূর্ধ্ব-২১: ২০ ম্যাচ, ৮ গোল
অনূর্ধ্ব-১৯: ৯ ম্যাচ