জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর গণহত্যার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল গাজাকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা এখানে ৮৫ হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।
তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক স্থগিত করার মতো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গাজায় ফিলিস্তিনিরা নির্মম কষ্ট সহ্য করছে। ইসরায়েল এই ভয়াবহ গণহত্যার জন্য দায়ী।
তিনি জানান, সরকারি হিসেবে ২ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। তবে শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তিনি গাজার জন্য ইসরায়েলের নতুন সহায়তা প্রক্রিয়া ও গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনকে মৃত্যুকূপ বলে অভিহিত করেন। এটি পরিকল্পিতভাবে দুর্ভিক্ষগ্রস্ত, বোমায় বিধ্বস্ত এবং দুর্বল জনগণকে হত্যা বা দেশত্যাগে বাধ্য করছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের সময় কিছু কোম্পানি বিপুল মুনাফা করেছে, বিশেষ করে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত ২০ মাসে তারা ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে বিপুল অর্থ আয় করেছে। গাজায় ৮৫ হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে যা হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার শক্তির ছয়গুণ।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তেল আভিভ স্টক এক্সচেঞ্জে ২১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একদিকে একটি জাতি লাভবান হচ্ছে, আরেকদিকে একটি জাতিকে মুছে ফেলা হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ইসরায়েল এই যুদ্ধকে ব্যবহার করছে নতুন অস্ত্র, নজরদারি প্রযুক্তি, প্রাণঘাতী ড্রোন ও রাডার সিস্টেম পরীক্ষার জন্য। ফিলিস্তিনের প্রতিরক্ষা না থাকায় এটি ইসরায়েলি সামরিক-শিল্প ব্যবস্থার জন্য আদর্শ পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে ৪৮টি কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা সরাসরি এই দখলদার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি দাবি করেন। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্র প্রস্তুতকারক, ব্যাংক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি কোম্পানি এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদনে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, বিএনপি প্যারিবাস, বুকিং এবং কোরিয়ার এইচডি হিউন্দাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন ও নজরদারি চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বসতিগুলো গড়ে উঠছে ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির অর্থায়নে, জ্বালানি কোম্পানির সরবরাহে এবং পর্যটন কোম্পানি, সুপারমার্কেট চেইন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতায় স্বাভাবিকীকরণ ঘটানো হচ্ছে।
জেনেভায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আলবানিজে জানান, তিনি এসব কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাঠিয়েছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি আলাদা করে বিশ্লেষণ করেছেন এবং কোথায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে তা দেখিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লঙ্ঘন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও গণহত্যার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে।
৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি তার চিঠির জবাব দিয়েছে। তবে তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যক সৎভাবে জবাব দিয়েছে, বাকিরা তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে। তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা আন্তর্জাতিক আইন বোঝে না, তারা মনে করে এই আইন শুধুই অজুহাত তৈরির জন্য।