এক দশক আগে রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, তার ভাই আবদুল মতিনসহ চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
তাবেলা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাত আসামির মধ্যে তামজিদ আহমেদ ওরফে রুবেল ওরফে শুটার রুবেল, মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল এবং রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেলকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদ- ও অনাদায়ে এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে রায়ে।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার এম এ কাইয়ুম, তার ভাই আবদুল মতিন, শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ ও মো. সোহেল ওরফে ভাঙ্গারি সোহেলকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
২০১৫ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়কে তাবেলা সিজারকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। তাবেলা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিসিও-বিডির কর্মকর্তা ছিলেন। তাবেলা সিজারকে হত্যার ঘটনায় একই দিন তার সহযোগী আইসিসিওর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ হেলেন ভেন ডার বিক বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ হত্যা মামলাটি করেন। আসামিদের মধ্যে তামজিদ, রাসেল, মিনহাজুল ও শাখাওয়াত এ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২২ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে।