একজন বিধ্বংসী ওপেনার, পরে নির্বাচক, রাজনীতিবিদ, এখন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের প্রধান কোচ—এক জীবনে এতসব রূপ! সনাৎ জয়াসুরিয়া যেন নিজেই এক অধ্যায়। গতকাল কলম্বোর সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের লবিতে বসে সেই জীবনের নানা বাঁক নিয়ে কথা বললেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে।
অকপটে জানালেন—রাজনীতি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
সাবেক এই বাহাতি ব্যাটার বলেন, 'সংসদ সদস্য হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ কাজ ছিল। জীবনে আর এই ভুল করব না। জীবনের সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।'
বাংলাদেশের তিন সাবেক অধিনায়ক রাজনীতিতে যোগ দিয়ে মহাবিপাকে আছেন। জয়সুরিয়াও কি এমন আশঙ্কা থেকে আর রাজনীতিতে ফিরতে চাচ্ছেন না?
জবাবে শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচ হাসতে হাসতে বলেন, 'না না, এসব কারণে নয়। আমার কাছে মনে হয়, এটা (রাজনীতি) ক্রিকেটারদের জন্য নয়। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অন্যদের কথা বলতে পারব না। আগেও বলেছি, রাজনীতিতে যোগ দেওয়াটা আমার বিশাল ভুল ছিল। দেখুন, খেলা সবাই পছন্দ করে, তাই পুরো জাতি আপনাকে ভালোবাসবে। কিন্তু আপনি যখন রাজনীতিতে যোগ দেবেন, তখন সেই সমর্থন ভাগ হয়ে যাবে। আমার জীবনের জঘন্যতম সিদ্ধান্ত ছিল রাজনীতিতে যোগ দেওয়া। ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছি। এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলতেও ভালো লাগে না।'
তাই আর রাজনীতি নয়, এখন তার মনোযোগ পুরোটা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট নিয়ে। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চ্যালেঞ্জ নিয়েই। 'সব সময় উপভোগ্য নয়, কখনো কখনো কোচিং কঠিন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বিশেষ করে যখন আপনি স্থানীয় কোচ হন, তখন চাপটা অনেক বেশি থাকে,' বললেন তিনি।
তুলনামূলক আলোচনা এড়ালেন না। খেলোয়াড়ি জীবন, নির্বাচকের দায়িত্ব, রাজনীতির মাঠ আর এখন কোচিং—সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে উপভোগ্য কোনটি? জবাবে হাসিমুখেই বললেন, 'খেলোয়াড়ি জীবনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আর কিছু তুলনাই চলে না। তবে কোচিং-ও কঠিন। এটা আমি নতুন করে শিখছি।'
এ সময় প্রশ্ন এসেছিল বাংলাদেশের সাবেক তিন অধিনায়ক রাজনীতিতে গিয়েও কেন বিতর্কে জড়িয়েছেন, সে প্রেক্ষাপট টেনেও জানতে চাওয়া হয়, জয়াসুরিয়া ফিরবেন কি না রাজনীতিতে? সরাসরি জবাব, 'না, একেবারেই না। আমি মনে করি, রাজনীতি ক্রিকেটারদের জায়গা নয়।'
ক্রিকেটে উন্নতির পেছনে তার দর্শন কী? খুব সহজ, 'খেলোয়াড়দের ঘষামাজা করি না। ওরা জাতীয় দলে আসার আগেই অনেক কিছু শিখে এসেছে। আমি শুধু আত্মবিশ্বাসটা জোগাতে চাই। কোচ হিসেবে আমি স্নেহশীল হতে চাই, কিন্তু শৃঙ্খলার জায়গায় আপস করি না। ড্রেসিংরুমে একটা সুখী পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।'
বয়স, অভিজ্ঞতা কিংবা বদলে যাওয়া সময়—কিছুই জয়াসুরিয়ার স্বাভাবিক সত্তাকে বদলাতে পারেনি। খেলার মাঠে যেমন ছিলেন আক্রমণাত্মক কিন্তু শান্ত, ঠিক তেমনটাই রয়ে গেছেন কোচিংয়ে এসেও। নিজস্ব ধারা বজায় রেখেই দলের প্রতিটি সদস্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন নির্ভরতার আরেক নাম হয়ে।