মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন হেইনরিখ ক্লাসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাত বছরের পথচলায় যিনি খেলেছেন বিশ্বকাপ থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—তার বিদায়টা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ভারসাম্য নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, 'সুযোগ পেলে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ উঠিয়ে দিতাম।' তবে প্রতি চার বছর পরপর ওয়ানডে বিশ্বকাপ হোক, এতে তার আপত্তি নেই।
ক্লাসেনের ভাষায়, 'বিশ্বকাপের আগে শুধু এক মাস সময় দিয়ে প্রতিটি দলের জন্য পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ রাখলেই যথেষ্ট। মানুষ এখন টি–টোয়েন্টি দেখতে চায়, সেদিকে মনোযোগ বাড়ানো উচিত। টেস্ট খেলা কম দলগুলোকে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হোক।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে বর্তমানে ক্লাসেন খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) দল সিয়াটল ওরকাসের হয়ে। বিশ্বজুড়ে টি–টোয়েন্টি লিগের উত্থানে যে তরঙ্গ তৈরি হয়েছে, ক্লাসেন নিজেই এখন সেই ঢেউয়ে ভাসছেন।
শারীরিক ও মানসিক ধকলের বিষয়টি সামনে এনেই ক্লাসেন সতর্ক করেছেন ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে। তার মতে, 'যদি আন্তর্জাতিক দলগুলো খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে, তাহলে তারা বাইরের লিগে খেলবে, কারণ সেখানেই অতিরিক্ত অর্থ ও স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড যেভাবে খেলোয়াড়দের যত্ন নেয়, সেটা বাকিদের কাছেও উদাহরণ হওয়া উচিত।'
২০১৮ সালে অভিষেকের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে ৬০টি ওয়ানডে, ৫৮টি টি–টোয়েন্টি ও ৭টি টেস্ট খেলেছেন ক্লাসেন। ছিলেন ২০২৩ ওয়ানডে ও ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, সর্বশেষ অংশ নেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ হারিয়ে ফেলছেন অনেক ক্রিকেটার। ক্লাসেন এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'আইসিসি যদি কিছু নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে চায়, তাহলে বাড়তি অর্থ খরচ করে তাদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। সব সংস্করণ ও সব লিগ একসঙ্গে খেলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, যার পরিণতি আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব।'
যেখানে একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের মাঝপথেই সব ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, সেখানে বোর্ডগুলো ও আইসিসির জন্য ক্লাসেনের এই সতর্কবার্তা নিছক এক ব্যক্তির অনুভূতি নয়—বরং এটি হতে পারে ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকনির্দেশনা।