ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুদের গায়ে কাটার আঁচড়ও লাগতে দেবে না বিএনপি

বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবং সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেছেন, “বিএনপির প্রতি আস্থা রাখবেন। কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। কথা দিচ্ছি, বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর আমরা কাটার আঁচড়ও লাগতে দেব না।”

শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্বামীবাগে ইসকন আশ্রমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসকন বাংলাদেশ। বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে তিনি বক্তব্য দেন।

সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি। তবে এক বার্তায় তিনি ভবিষ্যতে ইসকন মন্দিরে আসার প্রত্যাশা জানান।

আব্দুস সাত্তার বলেন, “শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গত সাড়ে ১৫ বছরে সারা দেশে আপনাদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। এখানে বিএনপির কোনো লোক যদি জড়িত থাকে, তাদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, “একটি মহল বিএনপিকে নিয়ে নানা কথা বলার চেষ্টা করে, নানা অপপ্রচার চালায়। আপনারা (ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা) কেউ এসব অপপ্রচারে কান দিবেন না। অপপ্রচারে কান দিয়ে বিএনপিকে ভুল বুঝলে তা হবে দুঃখজনক। এ দেশ সবার। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরের চলমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্নে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছি।”

আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশে এখন আস্থার সংকটে ভুগছে। তারা এখন নিশ্চয় ভাবছেন, আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দিবেন? আমি বলব, বিএনপির প্রতি যদি আপনাদের আস্থা থাকে, বিএনপিকে ভোট দেন। নিজেদের স্বার্থে আমাদের (হিন্দু সম্প্রদায়) সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদেরকে কেউ যেন কোনো একটি দলের ঘরের লোক মনে না করে।”

তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার খুব তাড়াতাড়ি ভাল একটি নির্বাচন দিবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।”

বিজন কান্তি সরকার বলেন, “ইসকনকে বিভিন্ন সময় জঙ্গি তকমা দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু ইসকনে জঙ্গি হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানবতার কল্যাণে কাজ করে থাকে। এটা আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।”

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে ‘হিন্দু কার্ড’ খেলেছে। কিন্তু হিন্দুদের কল্যাণে সত্যিকার অর্থে কোনো কাজ করেনি।”

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুশীল বড়ুয়া বলেন, “নিজেদের স্বার্থে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘মাইন্ডসেট’-এ পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সভাপতির বক্তব্যে ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ বলেন, “১৯৭১ সালে এ দেশে ২২ শতাংশ হিন্দু ছিল। এখন সেটা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন কেন দেশত্যাগ করছে, সেটা আমাদেরকে গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। হিন্দুরা যেন আর বৈষম্যের শিকার না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এক পা অগ্রসর হলে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের জন্য তিন পা এগিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের যুগ্ম সম্পাদক শুভ নিতাই দাস ব্রহ্মচারী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মকবুল ইসলাম খান টিপু প্রমুখ।

সভাটি পরিচালনা করেন ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস।