তানভীরের পাঁচে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেই নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন তানভীর ইসলাম। দুর্দান্ত স্পিনজাদুতে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন এ বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার। নবম উইকেটে লঙ্কান দুই ব্যাটারের ৫৮ রানের জুটিতে হারের শঙ্কায় পড়লেও শেষবেলায় ১৬ রানের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

এর আগে ৬৭ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তাওহীদ হৃদয় মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের ইনিংস ধরে রাখেন ৫১ রান করে। আর তানজিম হাসান সাকিব শেষে চালান তান্ডব। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের স্পিন সহায়ক পিচ এবং রান তাড়ায় কঠিন বনে যাওয়া উইকেটে তানজিমের ওই ঝড়ে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো ২৪৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা পাওয়ারপ্লেতে ভালো শুরু করলেও দ্বিতীয় ১০ ওভারের মধ্যেই ৫৭ রানে হারায় ৫ উইকেট, তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। তানভীর এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক, ওই স্পেলে ৪ উইকেট শিকার করেন ৩৫ রানে। শুরুতে কুশল মেন্ডিস খেলেন টর্নেডো ইনিংস। মাত্র ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে শেষ পর্যন্ত করেন ৩১ বলে ৫৬ রান। এটি ছিল এই মাঠে পুরুষদের ওয়ানডেতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড, শ্রীলঙ্কার হয়ে চতুর্থ দ্রুততম। তবে তাকে রিভিউ নিয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ফেরান তানভীর। এরপর একে একে তুলে নেন কামিন্দু মেন্ডিস ও দুুনিথ ভেল্লালাগের উইকেট। অধিনায়ক মিরাজ ও শামীমও তানভীরকে দারুণ সঙ্গ দেন। বিশেষ করে শামীম ছিলেন মিতব্যয়ী, ৯ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে তুলে নেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার উইকেট।

১৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা লঙ্কান ইনিংস এরপর একাই টেনে নিয়ে যান জানিথ লিয়ানাগে। তার ৮৫ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল স্বাগতিকরা। দুশমন্ত চামিরাকে নিয়ে নবম উইকেটে গড়েন ৫৩ বলে ৫৮ রানের জুটি। ৪৮তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে লিয়ানাগে যখন ফেরেন, তখন জয় পেতে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১৭ বলে ২১ রান। শেষ উইকেট জুটি আর পারেনি সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে। নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে তানজিম চামিরার স্টাম্প উপড়ে নিলে ৭ বল আর ১৬ রান দূরে থাকতেই জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে নিজেদের ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা জুটি আসে ইনিংসের শুরুতে। তানজিদ হাসান তামিম তৃতীয় ওভারে আসিথার সেøায়ার বলে এজ দিয়ে ফেরেন নিজের ৭ রানে। সেই ধাক্কা বাংলাদেশ সামলায় ইমনের দ্রুত রান তোলার মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটিতে সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তর অবদান ছিল মাত্র ১৪ রান। লঙ্কান বোলারদের বাজে লেন্থের বলগুলোর সদ্ব্যবহার করে ছক্কা হাঁকান তিনটি। এর মধ্যে দুটিই ছিল ডিপ মিড উইকেট দিয়ে। তার ৭২ শতাংশ রানই আসে লেগসাইড থেকে।

শান্ত ফেরার পর ক্রিজে আসা হৃদয় ছিলেন ইমনের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। এই ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ানডেতে হৃদয়ের নামের পাশে ছিল ৯৮৫ রান। মাত্র ১৫ যোগ করেই পৌঁছে যান চার অঙ্কে। মাত্র ৩৩ ইনিংসে এক হাজার রান করে হয়ে যান বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম। তার আগে আছেন শুধু শাহরিয়ার নাফীস ও এনামুল হক বিজয়।  ইমনের সঙ্গে ৩৭, শামীমের সঙ্গে ৩৩ ও জাকেরের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলের হাল টানছিলেন হৃদয়। কিন্তু জাকের ফেরার পর তানজিমের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের শিকার হয়ে ফিরতে হয় হৃদয়কে। ৬৯ বলে মাত্র দুই বাউন্ডারিতে ৫১ রান করেন হৃদয়। তার আগে শামীম ও জাকের দুজনই রান করেন বিশের ঘরে। চামিরার একমাত্র শিকার হয়ে অধিনায়ক ফেরেন মাত্র ৯ রানেই।

২০৪ থেকে ২১৮ ১৪ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট। বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ওই অবস্থায় নিজেকে ব্যাটসম্যান রূপে জাহির করেন তানজিম। হাসারাঙ্গার বলে সোজাসুজি দুটি ছক্কা হাঁকান ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে গিয়ে। চারও মারেন দুটো। মাত্র ২১ বলে ইনিংসে যোগ করেন অতিমূল্যবান ৩৩ রান।

এই জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার, পাল্লেকেলেতে।