সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মো. তারিকুল ইসলাম নামে এক ইট ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কে দিন পার করছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, আশুলিয়ার কুমকুমারী এলাকার মৃত শুকুর আলীর ছেলে মো. তারিকুল ইসলাম (৫২) একজন ইট ব্যবসায়ী। গত ২৬ জুন সকালে কুমকুমারি বাজার মসজিদের পূর্ব পাশের একটি বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজের জন্য ইটভর্তি ট্রাক পাঠান। এ সময় ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে মো. সুমন মিয়া (৩২), মিন্নত আলীর ছেলে সবুজ মিয়া (৩০), সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সাজন (২৩), আব্দুল মান্নান কবিরাজের ছেলে নজরুল মিয়া (২৫), মতিউর রহমান কবিরাজের ছেলে মনির হোসেন (৪৫), জেহের আলীর ছেলে জয়, মৃত দোখাই মিয়ার ছেলে মো. আলালসহ আরও কয়েকজন ট্রাক আটকে দেন। তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ড্রাইভারকে ইট নামাতে বাঁধা দেয়। এছাড়া তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি, গুম ও খুনের ভয়-ভীতি দেখায়।
ভুক্তভোগী ইট ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদা দাবিকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং একাধিক ছাত্র হত্যা মামলারও আসামি। তারা যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের ক্ষতি পারে। আমি থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমি পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা আগে যুবলীগ নেতা রাজু আহমেদের হয়ে কাজ করলেও সরকার পতনের পর বর্তমানে তারা আশুলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলামের নেতৃত্বে নতুন করে সংগঠিত হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
আশুলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা আগে কোন দল করেছে সেটি আমার জানা নাই। যদি কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজি করে থাকে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটা আমারও দাবি।
তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।