এবারের ব্রিকস সম্মেলনটি আগের সকল সম্মেলনের চেয়ে আলাদা। জোটের দুই শীর্ষ নেতা ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের কেউই ব্রাজিলে চলমান সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তার পরোয়ানা থাকায় পুতিন অনুপস্থিত কিন্তু চীনা প্রেসিডেন্ট কেনো নেই?
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ১২ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে থাকছেন না চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। অথচ বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের চেষ্টায় ব্রিকসকে কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত তিনি করে তুলেছেন।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা করা নতুন শুল্ক ব্যবস্থা। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্রিকসভুক্ত সদস্যগুলোতে আরও ঐক্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি চীনের জন্য একটি সুযোগ হারানোর শামিল। কারণ গ্লোবাল সাউথে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে চীনকে তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে এই সম্মেলনের মঞ্চ অন্যতম হাতিয়ার হতে পারত।
তবে সম্মেলনে শি নেই মানে ব্রিকসকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে চীন এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। বরং, দেশীয় অর্থনীতির দিকে শি’র মনোযোগ এবং সম্মেলন থেকে বড় কোনো অগ্রগতির আশা না থাকার ইঙ্গিত।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এই সম্মেলনে শি-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লি এখানে ব্রিকস সদস্য তেল-রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার এবং চীনা অফশোর ও ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের প্রসারে কাজ করবেন।
তবে শি ও পুতিন না থাকায় এবারের সম্মেলনে আলোচনায় থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শুধু সম্মেলনেই নয়, রাষ্ট্রীয় সফরেও ব্রাজিল যাচ্ছেন। সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাও উপস্থিত থাকবেন।
ব্রিকসের বর্ধিত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ব্রাজিল সফর নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সৌদি আরব ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০০৯ সালে অর্থনৈতিক জোট হিসেবে যাত্রা শুরু করে ব্রিকস। যার লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং জি-৭ এর প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসা।
বর্তমানে এই জোটের লক্ষ্য একাধিক মুদ্রা ব্যবস্থার প্রচার ও মার্কিন ডলার নির্ভরতা কমানো। এই লক্ষ্য রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২০২৩ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ‘ব্রিকস মুদ্রা’ চালুর প্রস্তাব দেন। তবে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিকস নিজস্ব মুদ্রা চালু করলে দেশগুলোর ওপর ১০০ ভাগ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
যদিও নিজস্ব মুদ্রা চালুর বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলে নেই, তবুও জাতীয় মুদ্রায় লেনদেনের বিষয়টি এবারও গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।