সারা দেশে চলমান মবসন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এসব অপরাধ দমনে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দলটি। একইসাথে গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সিপিবি। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, করণীয় এবং নির্বাচনপূর্ব সংস্কার নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের মাধ্যমে এ বছরের মধ্যেই নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানায় দলটি। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও দৃশ্যমান না হওয়ায় সভায় উদ্বেগ জানানো হয় এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরুর দাবি তোলা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, রাখাইনে করিডোর নির্মাণ, বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা এবং স্টারলিংক-এর সঙ্গে চুক্তির বিষয়গুলোকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এসব ইস্যুতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানায় দলটি।
সভায় বলা হয়, দেশে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে। আয় হ্রাস, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ বাঁচার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানায় দলটি।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি যথাযথ মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে ১৮ জুলাই 'শহীদ রেজভী দিবস' পালন করা হবে।
এ ছাড়া আগামী ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী পার্টির ত্রয়োদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে সকল শাখা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলন যথাযথভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।