স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ধূপখোলা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদ স্মরণে ‘শহীদ জুনায়েদ চত্বর’ এবং শহীদ শাহারিয়ার খান আনাস স্মরণে ‘শহীদ শাহারিয়ার খান আনাস সড়ক’ এর নামফলক উন্মোচন করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে তিনি সড়ক দুটি উদ্বোধন করেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালের দুর্বিষহ স্মৃতি রোমন্থন করে উপদেষ্টা এ সময় বলেন, চানখারপুলে যে স্থানে আনাস এবং জুনায়েদ শহীদ হয়, আমি তার পাশেই ছিলাম। আমরা সবাই পুলিশ, এপিবিএন'র ব্যারিকেড ভেঙে শহীদ মিনারের উদ্দেশ্যে যাবার জন্য প্রস্তুত হই, কিন্তু গুলিতে জুনায়েদ-আনাসসহ আরও অনেকে শহীদ হয়। আমরা এই শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। যে অদম্য দেশপ্রেম এবং প্রেরণা থেকে তারা জীবন দিয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, আমরা সকলে মিলে এমন বাংলাদেশই গড়ে তুলব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা দূর করতে আর যেন কাউকে জীবন দিতে না হয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত বাহিনী যেন অন্যায়ভাবে এমন গণহত্যা না করতে পারে, তাই এই গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার করতে আমাদের সকলের সম্মিলিত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সারা দেশের মানুষের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় এই লড়াই সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে শহীদ আনাসের মা এবং শহীদ জুনায়েদের বাবা বক্তব্য রাখেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ এবং ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের দাবি করেন। এছাড়াও সকল শহীদদের কবর সংরক্ষণ এবং স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জ্ঞাপন করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ডিএসসিসির কর্মকর্তারাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।