চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) শ্রমিক পদে নিয়োগ দিয়েই সরাসরি উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়নের ভয়াবহ অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে দেখা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ উপসহকারী প্রকৌশলী, কেউ কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন নিয়োগের দিনেই। এসব নিয়োগে কোনো ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার বিকেলে চসিক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাতে সাংবাদিকদের এমরান হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের অবৈধভাবে উচ্চ গ্রেডের পদে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের হাতে স্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই করে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘দুদক যেসব কাগজপত্র চেয়েছে, আমরা সেগুলো সরবরাহ করেছি। আরও কিছু নথি আগামীকাল দেওয়া হবে।’
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, এসব অনিয়ম ঘটেছে চসিকের সাবেক মেয়র এবং নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে। তিনি ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের সময় পর্যন্ত মেয়র ছিলেন। এরপর ১৯ আগস্ট তাকে অপসারণ করে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন।
চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেজাউল করিমের মেয়াদকালে নিয়োগ পাওয়া ১৮৮ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জনকে সরাসরি শ্রমিক পদ থেকে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়। জনবল কাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের হলেও তাদের মধ্যে অনেককে ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এইসব পদোন্নতিতে নিয়মিত পদ্ধতি অনুসরণ না করেই সাবেক মেয়র, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর, করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কিছু শ্রমিক নেতার সুপারিশে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই ঘনিষ্ঠদের সরাসরি চাকরি দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পুরকৌশলে ডিপ্লোমা এবং পরবর্তী সময়ে একই বিষয়ে স্নাতক পাস করা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ২০২৩ সালের ১৮ জুন শ্রমিক পদে যোগ দিয়েই সেদিনই সাগরিকা টেস্টিং ল্যাবে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন পান। একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া রশিদ আহমেদ ১৯ দিনের মাথায় বিদ্যুৎ শাখায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বদলি হন। তিনি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী।
এইচএসসি পাস করা জাহেদুল আহসান ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি শ্রমিক পদে নিয়োগ পেয়ে ১৭ দিনের মাথায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। একইভাবে এস এম রাফিউল হক মনিরী মাত্র ১৪ দিনেই শ্রমিক থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান।
এসব অনিয়ম তদন্তে দুদক বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করছে।