বগুড়ায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের ‘অবস্থান কর্মসূচি’

চাকরির গ্রেড উন্নয়ন ও পদমর্যাদা সংশোধনের দাবিতে ৬ দফা দাবিনামা সামনে রেখে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বগুড়ার স্বাস্থ্য সহকারীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা শাখার সভাপতি মো. মাসুদ রব্বানী, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাহেনা খাতুন, সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান, আবু জিহাস, জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বাস্থ্য সহকারী আশরাফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, উজ্জ্বল হোসেন, রাফিউদ্দিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মান্নান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল রাহিসান, জীবন নাহার, হেলেনা খাতুন, সানজিদা আক্তার, মাহবুব, আব্দুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলাম, সাথী খাতুন ও আব্দুল হালিমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, ‘দেশের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান স্বাস্থ্য সহকারীদের। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের দেওয়া হয়েছে ১৬তম গ্রেড। এক দশকের বেশি সময় চাকরিতে থেকেও গ্রেডের উন্নয়ন হয় না। যারা প্রকৃত টেকনিক্যাল কাজ করেন, তাদের পদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে নন-টেকনিক্যাল হিসেবে। এটা বড় ধরনের বৈষম্য।’

তারা আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সরকার স্বাস্থ্য সহকারীদের টেকনিক্যাল স্বীকৃতি ও বেতন কাঠামোর উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত রয়েছেন, যারা শিশু, গর্ভবতী নারী, কিশোরীসহ বিভিন্ন শ্রেণির জনগোষ্ঠীকে টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। আমাদের যৌক্তিক দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।’

অবস্থান কর্মসূচিতে উত্থাপিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো—

  • নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ১৪তম গ্রেডে পদায়ন।
  • চাকরিরত অবস্থায় ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারী স্বাস্থ্য সহকারীদের ১১তম গ্রেডসহ টেকনিক্যাল মর্যাদা দেওয়া।
  • পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।
  • আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা।
  • পুনঃনির্ধারিত বেতন কাঠামোর সঙ্গে টাইম স্কেল ও উচ্চতর স্কেলগুলো সংযুক্ত করে বেতন উন্নীত করা।
  • ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) সম্পন্নকারীদের সমমান হিসেবে গণ্য করা।

স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।