খুলনায় টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের বাস্তবায়নাধীন ৮২৪ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর বিকে রায় রোড, ডাকবাংলো মোড়, শামসুর রহমান সড়কের বাইতিপাড়া মোড়, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়কের রয়্যাল মোড়, দোলখোলা মোড়, বয়রা পুলিশ লাইন, নতুন রাস্তা মোড়, নতুন বাজার, টুটপাড়া, লবণচরা এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। যেসব সড়কে উন্নয়নকাজ চলছে, সেখানে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী ও নিন্ম আয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সকালে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। রিকশা ভাড়া বেশি দিয়ে আসতে হয়েছে।
রিকশাচালক মো. আলমাস জোয়াদ্দার বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর বয়রা এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল সোমবার থেকে রাস্তাঘাটে মানুষ খুব কম বের হচ্ছে। টাকা-পয়সা আয় না হওয়ায় এ দুইদিন খুব কষ্টে আছি।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, শহর থেকে ভৈরব ও রূপসা নদীর তলদেশ ভরাট ও উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানি নদীতে নামতে পারছে না। উল্টো জোয়ারের সময় পানি শহরের দিকে উঠে আসছে। পানি নিষ্কাশনের মূল মাধ্যম হিসেবে পরিচিত নগরীর ২২টি খাল এখনো দখলমুক্ত বা সংস্কার হয়নি। নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অনেক জায়গায় রাস্তার চেয়ে নালা উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। জলাধার ভরাট হওয়ায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
কেসিসি সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (প্রথমপর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। ৮২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় গত সাত বছরে ১৯৮টি ড্রেন পুননির্মাণ ও ময়ূর নদীসহ বেশকিছু খাল খনন করেছে সিটি কর্পোরেশন। ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান বলেন, খুলনা শহর বেশ নিচু। জোয়ারের সময় পানি ঢোকে। আবার যেসব জায়গা দিয়ে পানি সরার কথা সেখানে পূর্ত বিভাগের কাজ চলছে। রাস্তার কাজের জন্য যেসব বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কিছু কিছু তারা কেটে দিয়েছেন, যাতে পানি সরতে পারে।
তিনি বলেন, ড্রেন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাম্প স্টেশন ও সুইসগেট সংস্কারের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে জলজট অনেকটা কমে যাবে।
খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।