জোটার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত, দ্রুতগতিই বড় কারণ বলে ধারণা পুলিশের

স্প্যানিশ মহাসড়কে ল্যাম্বোরগিনির ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লিভারপুল তারকা দিয়োগো জোটা ও তাঁর ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভা। এবার স্প্যানিশ পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে—দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে গাড়ির অতিরিক্ত গতি।

২৮ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটা নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। উত্তর-পশ্চিম স্পেনের জামোরা প্রদেশের এ৫২ মহাসড়কে, পালাসিওস দে সানাব্রিয়ার কাছে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে দুর্ঘটনাটি।

স্প্যানিশ পুলিশ বাহিনী গারদিয়া সিভিল জানায়, একটি সম্ভাব্য টায়ার বিস্ফোরণের পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করছিল।

জামোরার ট্রাফিক পুলিশের ভাষায়, 'সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে গাড়িটি রাস্তায় নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চলছিল।'

তারা আরও জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া টায়ারের চিহ্ন, রাস্তায় ব্রেকের দাগ, এবং বাকি তদন্ত প্রমাণ করছে—গাড়িটি চালাচ্ছিলেন জোটা নিজেই। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার আগেই পাওয়া গেছে টায়ার ঘর্ষণের স্পষ্ট চিহ্ন।

দুর্ঘটনার মাত্র ১১ দিন আগে দীর্ঘদিনের সঙ্গী রুতে কারদোসোর সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন জোটা। তাদের তিনটি সন্তানও রয়েছে।

IMG_20250709_113055

দুই ভাই মিলে যাচ্ছিলেন স্পেনের সান্তান্দের বন্দরের দিকে, যেখান থেকে জোটা ফের ইংল্যান্ডে ফিরে যোগ দিতেন লিভারপুলের প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে।

ভয়াবহ আগুনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় ল্যাম্বোরগিনি গাড়িটি, যা দুর্ঘটনার তদন্তকে করেছে আরও জটিল। যদিও তদন্তকারীরা নিশ্চিত—সড়কের ওই অংশটি ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত নয় এবং ১২০ কিলোমিটার গতিসীমা ছাড়ালেও গাড়িটি চালানো সম্ভব ছিল।

তদন্ত শেষে চূড়ান্ত বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে আদালতে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে পর্তুগালের গন্ডোমারে গত সপ্তাহান্তে দুই ভাইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অংশ নেন সহকর্মী, বন্ধু, আত্মীয় এবং হাজারো ভক্ত।

মাত্র কয়েকদিন আগেই নতুন জীবনের শুরু, সামনে মৌসুম শুরুর প্রস্তুতি—কিন্তু সবই থেমে গেল এক মুহূর্তের ঝড়ো গতিতে। দিয়োগো জোটা, যিনি গোল করে আনন্দ ছড়াতেন, এবার রেখে গেলেন নীরব এক শোকের তরঙ্গ। ফুটবল বিশ্ব আজও শোকে স্তব্ধ।