রাজনৈতিক অস্থিরতায় কমেছে বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্য

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বন্দর সূত্র বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ টন এবং রপ্তানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ টন। গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ টন; চলতি অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৮ টনে। রপ্তানি হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ টনের বিপরীতে এবারে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টনে।

পণ্য আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় বন্দরের কাজেও ভাটা পড়েছে। এতে আয়-রোজগারও কমেছে সংশ্লিষ্টদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু-দেশের পক্ষ থেকে আরোপিত নানা বিধিনিষেধই বাণিজ্যের এই ধসের মূল কারণ। তারা দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের বড় অংশ বেনাপোল দিয়ে হয়। কিন্তু ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা কমতে শুরু করে। এখন বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে বন্দরের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ক্ষতির শিকার হচ্ছে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতও।’

বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন দেশেই হয়ে থাকে। এসব পণ্য আমদানি না করায় বাণিজ্য কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ভারত থেকে গড়ে ৬০০ ট্রাক পণ্য আসত, আর রপ্তানি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। এখন আমদানি নেমে এসেছে ৫০০ ট্রাকে, আর রপ্তানি ১০০ ট্রাকের নিচে।’

বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যবান্ধব নীতিই পারে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে।