মধ্যপ্রাচ্যের দুই পরাশক্তি ইরান ও সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে নজর দিয়েছে। সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ জেদ্দায় মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, ইরানের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সৌদি আরব।
বৈঠকে তিনি সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার যে ইতিবাচক ধারা গড়ে উঠেছে তাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দুইটি বড় মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া জরুরি।
তিনি সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া অপরিহার্য।
বিন সালমান আরও বলেন, সৌদি আরব তার সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে ভূমিকা রাখবে এবং কূটনীতির মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করবে।
অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে তেহরান সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ইরান সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে প্রস্তুত।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর জন্য তিনি সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ হামলা ছিল জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আগ্রাসন পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এক নজিরবিহীন হুমকি সৃষ্টি করেছে। তবে আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে জায়োনিস্ট শাসনব্যবস্থার সম্প্রসারণবাদ ও যুদ্ধবাদী নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।