ধর্ষণ মামলার আসামিকে বিএনপি নেতা বলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে ‘বিএনপি নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করেছেন উপজেলা বিএনপির এক নেতা।

মামলাটি করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া। গত সোমবার (৮ জুলাই) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব আলমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। বিষয়টি জানাজানি হয় বুধবার।

মাহবুব আলম দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন রাতে মুরাদনগরে সংঘটিত একটি ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে ‘মুরাদনগর লাইভ টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বিএনপি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরজিতে আরও বলা হয়, ফজর আলী ও তার পরিবার কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি এবং তার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। ওই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দলটির এক হাজার কোটি টাকার আর্থসামাজিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সাংবাদিকের দাবি, তথ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন

এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহবুব আলম বলেন, ‘আমি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছি। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ফজর আলীকে স্থানীয়রা বিএনপি নেতা হিসেবে চিনে থাকেন। তাদের একাধিক বক্তব্য আমার কাছে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির প্রধান কার্যালয় উদ্বোধনের সময় ফজর আলী সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। সেসব প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।’