ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শুল্ক আলোচনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ ইস্যুতে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা ফেসবুকে জানান, আলোচনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে। আগামী দুই দিনও আলোচনা চলবে। অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তবে শুল্ক ইস্যুতে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সব দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় এবং শুক্রবারও আলোচনা হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ফেসবুকে লিখেছেন, প্রথম দিনের আলোচনায় কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদল মার্কিন পক্ষের সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। তিনি জানান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক হবে।
বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খালিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। মার্কিন পক্ষে ছিলেন কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কপিরাইট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই আলোচনার লক্ষ্য হলো একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা, যা বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল আসবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এমন কিছু শুল্ক নীতির প্রস্তাব দিয়েছে। এতে সামরিক সরঞ্জাম, এলএনজি, গম, কৃষিপণ্য, তুলা ও উড়োজাহাজ আমদানিতে শুল্ক সহজীকরণের কথা বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে বাংলাদেশ নমনীয়। তবে এতে বেসরকারি খাতের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ, এলএনজি, গম ও তুলা আমদানি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।