ভালো পেসার অনেকেই হন, কিন্তু কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন হাতে গোনা কয়েকজনই। মিচেল স্টার্ক সেই আলাদ একজন—যার গতি, সুইং আর ক্ষুরধার প্রতিপত্তি তিন ফরম্যাটেই ভীতি ছড়িয়েছে প্রতিপক্ষের হৃদয়ে। এবার আরও উচ্চতায় উঠছেন এই বাঁহাতি পেসার। জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে যখন নামবেন শততম টেস্ট খেলতে, তখন তিনি হবেন মাত্র দ্বিতীয় অস্ট্রেলীয় পেসার, যিনি এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন।
শুধু শততম টেস্টই নয়, সামনে দাঁড়িয়ে আরও একটি স্বর্ণালি মুহূর্ত—স্টার্ক আছেন ৪০০ টেস্ট উইকেটের দোড়গোড়ায়। মাত্র পাঁচ উইকেট দূরে। যদি জামাইকায় সেটা পূরণ হয়, তাহলে তিনিই হবেন অষ্টম ফাস্ট বোলার, যিনি ১০০ টেস্ট ও ৪০০ উইকেটের সম্মিলিত কৃতিত্ব অর্জন করবেন।
৩৫ বছর বয়সী স্টার্কের যাত্রাটা কিন্তু শুরু হয়েছিল একদম অন্য জায়গা থেকে—তিনি ছিলেন একজন উইকেটকিপার! এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন এমন এক গতিময় অস্ত্রে, যার ইনসুইং ডেলিভারি যেন ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্ন। কিন্তু কেবল গতিই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রপ্ত করেছেন ‘ওব্বল সিম’ বল, নিখুঁত লাইন-লেংথ, আর রিভার্স সুইংও। এই পরিণত স্টার্ক এখন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বোলার।
স্টার্কের নাম এলেই ভেসে ওঠে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়ে জয়ের ভিত গড়েছিলেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সময় লেগেছে। নিজেও স্বীকার করেছেন, ২০১৫ সাল থেকে টেস্টে নিজের জায়গা বুঝে পান তিনি। এরপর থেকে থেমে থাকেননি—২০১৬ সাল থেকে কোনো এক মৌসুমেও তাঁর বোলিং গড় ৩০ ছাড়ায়নি। শ্রীলঙ্কায় ২০১৬ সফরে ২৪ উইকেট, পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরে ২০২২ সালের ৪ উইকেট বা অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেট—স্টার্ক হয়ে উঠেছেন নির্ভরতার প্রতীক।
তবে পথটা কেবল সাফল্যের ছিল না। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে মাত্র এক ম্যাচ, সেই ম্যাচে জেতালেও বাদ পড়েন পরের খেলায়। ২০২৩-এর অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচেও একাদশে ছিলেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিরিজসেরা উইকেটশিকারি তিনি। সেই পারফরম্যান্সের ফল হিসেবে জায়গা পেয়েছেন উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের তালিকায়ও।
অস্ট্রেলিয়া কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড তো বলেই দিয়েছেন, “এই অর্জন অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পিচে এত দীর্ঘ সময় খেলা—এটা শুধু প্রতিভার নয়, আত্মত্যাগ, পরিকল্পনা আর মানসিক দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি।”
এত কিছু অর্জনের পরও স্টার্ক এখনও থেমে যাওয়ার নাম নন। এই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেল শেষ করাই আপাত লক্ষ্য। এরপর হয়তো চোখ থাকবে আরও একবার ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ জয়ের দিকে। তবে সে যাই হোক, একটা কথা এখন বলাই যায়—মিচেল স্টার্কের মতো ক্যারিয়ার আবার কবে দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব, বলা মুশকিল। সম্ভবত কখনই নয়।