এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা- দুটোই কমেছে। এ বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৭। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৭৯১ জন ও মেয়ে ১ হাজার ৮২৩ জন। গত বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ে এই ফল প্রকাশ করেন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এ বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭০ হাজার ৯১ জন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪৭, মানবিকে ৬৪ দশমিক ৭১ এবং ব্যবসা প্রশাসনে ৭৬ দশমিক ৯৫।
শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬০ হাজার ৪১৫ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪১ হাজার ৪০৭ জন এবং ৪১ হাজার ৮০৪ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৮ হাজার ৬৮৪ জন। মেয়ে শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৪ এবং ছেলেদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬২।
এ বছর সিলেট বোর্ডের অধীন ৭টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। তবে শতভাগ ফেল করেছে এমন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। গত বছর শতভাগ পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩১টি এবং ২০২৩ সালে ছিল ২৩টি।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমার বিষয়ে সিলেটে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের কারণে নিয়মিত ক্লাস করতে না পারায় সারাদেশেই ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীরাও ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেনি।’
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ‘সিলেটের শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী প্রবণতা, অমনযোগিতা ও শিক্ষকদের সঠিক নির্দেশনার অভাব- খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারায় পাসের হার কমেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ফেল করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। দুর্গম হাওরাঞ্চল ও গ্রামের অনেক প্রতিষ্ঠানে মানসম্পন্ন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব রয়েছে।’
সার্বিক ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেসব দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব হয়।’