নেত্রকোনায় পাসের থেকে ফেলের সংখ্যা বেশি

নেত্রকোনায় এসএসসির ফল প্রকাশ হলেও কৃতকার্য থেকে অকৃতকার্য সংখ্যায় যেন বেশি। এই যেমন জেলা সদরের টি খান উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার ৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র একজন। ছয়জনই হয়েছে অকৃতকার্য। এছাড়াও জেলার দুর্গাপুর উপজেলার নাগেরগাতী অনির্বাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগের ৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র দুইজন।

কেন্দুয়ার সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখার একাত্তর জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ৬২ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। আর কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ৯ জন। একই উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও বিজ্ঞান শাখায় ৩৬ জন ও মানবিক শাখায় ১৫৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও মানবিক শাখায় পাস করেছে মাত্র ৫৭ জন বাকি ১০০ জনই অকৃতকার্য।

কলমাকান্দা উপজেলার একতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় ৪৬ জন পরীক্ষার অংশগ্রহণ করলেও অকৃতকার্যই ৩৭ জন আর কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ৯ জন। মদন উপজেলার চৌধুরী তালে মিছিল জান একাডেমি থেকে মানবিক শাখায় ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কৃতকার্য করেছে মাত্র ৯ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ২৯ জন।

জেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কৃতকার্য শিক্ষার্থীর চেয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী সংখ্যাই বেশি। পুরো জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৫৮।

তবে অকৃতকার্যের ভিড়েও শতভাগ পাস নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জেলায় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্থান ধরে রেখেছে কথাসাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত কেন্দুয়ার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপাঠ। এবার এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় ৩৩ জন, মানবিক শাখায় ১৪ জন ও ব্যবসায়ী শাখায় ৯ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ভালো ফলাফল নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে সবাই। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৮ জন।

জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চলতি বছর মানবিক শাখায় ৬ জন ও বিজ্ঞান শাখায় ২৩১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে মানবিক শাখায় শতভাগ ও বিজ্ঞান শাখায় ২৩১ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২৮ জন। 

এছাড়াও শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০৮ জন। মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮৭ জন। দুর্গাপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮ জন।

জেলা শিক্ষা অফিসার রানী সরকার জানান, চলতি বছর জেলার দশ উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে মোট ১৯ হাজার ৫৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার শতকরা পাসের হার ৫৬ দশমিক ১৪। এর মাঝে কৃতকার্য হয়েছে ১১ হাজার ৫২৮ জন। আর অকৃতকার্য ৮ হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী। যারা এ বছর সব মিলিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৯শ ৪৮ জন।

জেলায় দাখিল পর্যায় শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে ৩ হাজার ৪৬০ জন। কৃতকার্য করেছে ২৩০৪ জন ও অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১৫৬ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৬ জন শিক্ষার্থী। 

এছাড়াও ভোকেশনালে মোট ২ হাজার ৩৫৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে কৃতকার্য করেছে ১ হাজার ৮৪১ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৫১৩ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৩ জন শিক্ষার্থী।