জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর। আগামীতে একসঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ ইঙ্গিত দেন ঢাকসুর সাবেক এই ভিপি।
নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কথা নেই। নাহিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, আরও হবে। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, বিএনপির সঙ্গেও হয়েছে।’
নুর বলেন, ‘একই জায়গা থেকে বায়াত নেয়া তরুণ আবার ঘুরে-ফিরে একই জায়গায় চলে আসতে পারে। যা দেশের জন্যও ভালো হবে।’
এ সময় গণঅধিকার পরিষদ এনসিপির সঙ্গে জোট করবে কিনা জানতে চাইলে নুরুল হক বলেন, ‘অংশীদারিত্বের প্রয়োজনে ছাড় দিতে হয়। সেই জায়গা থেকে কোন প্লাটফর্মে মিলিত হব বা হতে হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা সময় গেলে তা বোঝা যাবে।’
সম্প্রতি নুরুল হক নুর বিএনপির ‘আশীর্বাদ’ ছেড়ে এনসিপির সঙ্গে জোটে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। যদিও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নুরের নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপায় রাজনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতে বিএনপির পক্ষে থেকে স্থানীয় নেতাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নুরের জন্য যুগপৎ আন্দোলনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখছিলেন। তবে গত ঈদুল আজহায় নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে হয় গণঅধিকার পরিষদকে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির আশীর্বাদকে কিভাবে দেখছেন প্রশ্নে নুর বলেন, ‘বিএনপি আমাদের আশীর্বাদ দিয়েছে নাকি অভিশাপ দিয়েছে তা জানি না। মনে রাখতে হবে গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপি সংগঠিত ছিল সারা দেশে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে স্থানীয়ভাবে বাধা আসছিল। আমরা বিএনপিকে সে বিষয়ে অবগত করেছিলাম। এই কারণেই বিএনপি চিঠি দিয়েছিল কিনা জানি না। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। এ কারণে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করেছে।’