ভারত-ইংল্যান্ডের চলতি টেস্ট সিরিজে ডিউকস বল নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। খুব দ্রুত এই বল নরম হয়ে আকৃতি হারাচ্ছে। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কেও জড়িয়েছেন শুবমান গিলেরা। তাদের সমর্থন দিয়েছেন সুনিল গাভাস্কার এবং স্টুয়ার্ট ব্রডের মতো সাবেক তারকারা। অবশ্য এবারও ক্রিকেটারদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ডিউকস বলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
গতকাল লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুরুর স্পেলে জসপ্রীত বুমরা ইংল্যান্ডের তিন ব্যাটারকে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু বল নিয়ে ভারতীয়রা সন্তুষ্ট ছিল না। তারা অভিযোগ করেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের কাছে। বাংলাদেশের আম্পায়ার খতিয়ে দেখেন, সত্যিই বলের আকার বদলে গেছে। ততক্ষণে সেই বলে খেলা হয়েছে মাত্র ১০.৩ ওভার! শরফুদ্দৌলা বল পরিবর্তন করে দেওয়ার পরও সমস্যার শেষ হয়নি।
নতুন বল হাতে পেয়েই শুবমানরা আবারও আপত্তি জানিয়ে বলেন, বল মোটেই ১০ ওভার পুরনো নয়। আরও পুরনো। মোহাম্মদ সিরাজকে তো স্টাম্প মাইক্রোফোনে বলতে শোনা যায়, ‘এটা ১০ ওভার পুরনো বল মনে হচ্ছে? সত্যি সত্যি?’ তখন শরফুদ্দৌলা অনুরোধ করেন তাড়াতাড়ি বোলিং মার্কে যেতে। সিরাজ রান-আপ শুরু করতে যাবেন এমন সময় আকাশদীপ এগিয়ে এসে আবার বলের পালিশ দেখান। কিন্তু আম্পায়ার তার অবস্থানেই ছিলেন।
ম্যাচের ওই মুহূর্তে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে ছিলেন কিংবদন্তি ভারতীয় ওপেনার সুনিল গাভাস্কার। বল দেখে তিনিও অবাক হয়ে বলেন, ‘এখান থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে যে বলটি কোনোভাবেই ১০ ওভার পুরনো নয়। অন্তত ২০ ওভার পুরনো বল! বার বার ডিউক বল নিয়ে অভিযোগ উঠছে। আগে এই বলে যতটা সুইং হতো, এখন সেটার ধারেকাছেও হয় না। এবার সত্যি ভাবার সময় এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে ভাবতে হবে, এরপরও তারা ডিউক বলে খেলবে কিনা।’
সেই কথিত ১০ ওভারের পুরনো বলেও বেশিক্ষণ খেলা হয়নি। ৮ ওভার পর আবার আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করে ভারতীয় দল। আম্পায়ার বল পরীক্ষা করে দেখেন, সেটা বল পরীক্ষার রিংয়ের মধ্যে ঢুকছে না। ফলে আবার বল পরিবর্তন করা হয়। তাহলে কি ভারতের অভিযোগই সত্যি ছিল? তাদের পুরনো বল দেওয়া হয়েছিল? সেই কারণেই ‘নতুন’ বলে বেশিক্ষণ খেলা সম্ভব হয়নি! দ্বিতীয়বার বল পরিবর্তনের পর অবশ্য কোনো অভিযোগ করেনি ভারতীয় দল।
টেস্টে একটা বলে ৮০ ওভার খেলা হয়। সেখানে ডিউক বলের আকার ১০ ওভারও ঠিক থাকছে না। এতে অবাক ইংল্যান্ডেরই সাবেক ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রড সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘বল সবসময় একজন ভালো উইকেটকিপারের মতো, যাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয় না। সে চুপচাপ নিজের কাজ করে। কিন্তু এই সিরিজে বল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। গত পাঁচ বছর ধরেই ডিউক বলে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একটা বলে ৮০ ওভার খেলা হওয়া উচিত, ১০ ওভার নয়।’
এদিকে বিতর্কে মাঝে সাফাই দিয়েছেন ডিউকস কম্পানির মালিক দিলীপ জাজোদিয়া, ‘ক্রিকেট বল তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ না। বিশ্বে মাত্র তিনটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আছে যারা ক্রিকেট বল তৈরি করে- কোকাবুরা, এসজি এবং আমরা। বল তৈরি করা সহজ কাজ হলে শতশত কম্পানি এই কাজ করত। ক্রিকেটারদের বোঝা উচিত, আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। চুপচাপ বসে বসে পা দুলিয়ে সিগার খাচ্ছি না। ভালো বল তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’