দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। রাজধানীর মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী যুবদল কর্মী সোহাগকে প্রকাশ্য দিবালোকে অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এমন নৃশংস বর্বরতা প্রত্যক্ষ করে সমগ্র জাতি স্তম্ভিত। আমরা এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। সভ্যতার এই যুগে এমন আদিম বর্বরতা আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। ব্যবসায়ী হত্যার দুদিন পর ভিডিও সামনে এনে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ও ইন্ধনদাতা হিসেবে যেসকল যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের নাম এসেছে তাদের সকলকে আমরা সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছি। সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকে যা কিছু প্রয়োজন আমরা সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়েছি। কিন্তু এই ঘটনায় যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হিসেবে ভিডিও ফুটেজ ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া গেছে আশ্চর্যজনকভাবে তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে তারা অদ্যবধি গ্রেপ্তারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা গণমাধ্যমসূত্রে জানতে পেরেছি, মামলার এজাহারে খুনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত তিনজন খুনিকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার পর ৬০ ঘন্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুনীদের খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকা সত্ত্বেও অদ্যবধি কেন মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল না, এটা এক বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট দীর্ঘ দেড়যুগের অবর্ননীয় নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম, খুন, সোয়া লাখ গায়েবি মামলা, ইতিহাসের বর্বরতম ফ্যাসিবাদী নিষ্পেষণ থেকে দেশ, জাতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা মুক্তি লাভ করে। এই দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ বিএনপির নেতাকর্মীরাই নিজেদের জীবন, ক্যারিয়ার, পরিবার, ব্যবসাসহ জীবন ও সম্পদকে বিপন্ন করে এক বর্বর ফ্যাসিস্ট একনায়কের বিরুদ্ধে মাঠের প্রতিরোধটুকু জারি রেখেছিল। তারা গুম, খুন, অপহরনসহ নানামাত্রিক বর্বরতার নির্মম শিকার হয়েও কখনও মাঠ ছেড়ে যায়নি। গত জুলাইয়ের আন্দোলনেও আমরাই সবচাইতে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছি। সর্বমোট যে শহীদের তালিকা আমরা অদ্যবধি পেয়েছি, তার প্রায় অর্ধেকসংখ্যকই আমাদের দলীয় নেতাকর্মী। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের সফলতার পর আমরা ক্রেডিটের নেশায় মোহগ্রস্থ না হয়ে, শহীদদের রক্ত নিয়ে ব্যবসা না করে স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে ফিরে গেছি।
তিনি বলেন, বিএনপি দায় এড়ানোর রাজনীতি করে না। সারা দেশে যাদের নিয়েই অভিযোগ এসেছে, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এক পক্ষ দেশেকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। কিন্তু একটি সুযোগসন্ধানী বিশেষ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিলেক্টিভ প্রতিবাদ করে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং তীব্র কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য বিবৃতি দেয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ইতোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সরকার ও প্রশাসনকে অসংখ্যবার অনুরোধ করেছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন এক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকার পরিকল্পনামাফিক প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে যাতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকে এবং এই অজুহাতে জাতির দীর্ঘ প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করা যায়। একটি বিশেষ গোষ্ঠী যারা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরণ চায় না তারা এই সুযোগটি গ্রহণ করে বিএনপি এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে। তারা চায় দেশে আরও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। সরকারের একটি অংশ তাদের এই দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনার অংশ হয়ে অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আমরা বারবার অনুরোধ করার পরেও দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি।