লিটনকে রানে ফেরাতে কোচদের 'কঠোর চেষ্টা' সফল হবে কি

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটারদের একজন লিটন দাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টা তার জন্য ভয়াবহ। ব্যাট হাতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েও সাফল্য আনতে পারছেন না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সেই চিত্র বদলায়নি।

এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—লিটনকে রানে ফেরাতে কোচদের ‘কঠোর চেষ্টা’ আদৌ সফল হবে কি?

ডাম্বুলায় অনুশীলন। ছবি: মোশারফ হোসেন

আত্মবিশ্বাসের সংকটে লিটন, কিন্তু কোচ আশাবাদী

কোচ ফিল সিমন্স জানালেন, লিটনের ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য তারা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কথায়:

“লিটন এখন তার সেরা সময় পার করছে না, আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি আছে। কিন্তু আমরা জানি সে কতটা সামর্থ্য রাখে। আমরা কঠোর চেষ্টা করছি ওকে নিয়ে, একটা ইনিংসই ওকে ফিরিয়ে আনবে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সে রানে ফিরবে।”

অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই লিটন বলেছিলেন, “এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে?” কিন্তু বাস্তবে যেন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজে ০, আর টি-টোয়েন্টিতে টানা ছয় ম্যাচে পরাজয়। ব্যাটিংয়ের ম্লান পারফরম্যান্স আর দলের হার যেন এক হয়ে গেছে লিটনের জীবনে।

পিচ দেখছেন লিটন দাস ও শন টেইট। ছবি: মোশারফ হোসেন

হারের হ্যাটট্রিকের আশঙ্কা

বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যদি পরাজিত হয়, তাহলে হবে টানা তিন সিরিজ হার—এক প্রকার "হারের হ্যাটট্রিক"।

এই অবস্থায় দলের কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন:

“আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা আছে। জিততে হলে বেশি রান করতে হবে, প্রথম ৬ ওভারে ভালো বল করতে হবে, এবং ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।”

ডাম্বুলায় নতুন মাঠ, পুরনো সমস্যা

বাংলাদেশ এবার খেলছে ডাম্বুলায়, যেখানে আগে টি-টোয়েন্টি খেলেনি। যদিও ২০১৭ সালে এখানে একটি ওয়ানডে খেলেছিল। সিমন্স বলেন:

“মাঠটা নতুন হলেও বৈশিষ্ট্য নতুন নয়। বড় মাঠ, ভালো উইকেট। আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে। মিরপুরের চেয়ে এখানে ভিন্ন পরিস্থিতি।”

ম্যাচের আগে অনুশীলনে উইকেট দেখে ঠিক করবেন একাদশে পরিবর্তন আনবেন কি না।

একাদশে চার ওপেনার, কেন?

প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিল চারজন ওপেনার। কোচ সিমন্স ব্যাখ্যা দিলেন:

“জাকের আলি চোটে পড়েছিল। তার জায়গায় কাকে নিব? আমাদের একজন ব্যাটার দরকার ছিল, তাই ব্যাটারই খেলিয়েছি। ভুল লোক দিয়ে শুরু করাও কখনো কখনো কৌশলের অংশ।”

জাকের আলির ক্ষেত্রে সমস্যাটা ছিল দ্বিমুখী—তার ব্যাটিং যেমন অনিশ্চিত, তেমনি উইকেটরক্ষক হিসেবেও আলো ছড়াতে পারছেন না। ২৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ৯টি ডিসমিসাল (৬ ক্যাচ, ৩ স্টাম্পিং)। ফলে উইকেটের পেছনে জাকের থাকলেও বড় কোনো পার্থক্য গড়ে উঠছে না।

মোস্তাফিজুর রহমান কেন একাদশের বাইরে?

বাংলাদেশ শেষ যে টি-টোয়েন্টি জিতেছিল (আরব আমিরাতের বিপক্ষে), তাতে মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন।

তারপরও তাকে বাদ রাখা হয়েছে প্রথম ম্যাচে। প্রশ্ন থেকেই যায়—ফিট থাকা সত্ত্বেও কেন দলের বাইরে?

অজুহাত, আত্মবিশ্বাসহীনতা, আর নতুন মাঠ—সব মিলিয়ে অচল অবস্থা

বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। একদিকে ফর্মহীন অধিনায়ক, অন্যদিকে অনিশ্চিত একাদশ নির্বাচন, সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কোচের ‘অজুহাতমুখী’ ব্যাখ্যা।

যেমন সিমন্সের কথাতেই বোঝা যায়:

“মানুষদের বাস্তবমুখী হতে হবে… আমাদের হাতে বিকল্প ছিল না।”

এসব কথা দলীয় সংস্কৃতিরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে ব্যর্থতার চেয়ে অজুহাত তৈরিতে মনোযোগ বেশি।