যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের’ কর্মসূচি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গণগ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনে সমর্থনে কর্মসূচিতে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাজ্যে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামে সংগঠনের বহু কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটিশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

ব্রিটিশ পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লন্ডনে অন্তত ৪১ জন এবং ম্যানচেস্টারে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরি’ নামে একটি অধিকার সংগঠন বলেছে, শনিবার (১২ জুলাই) সারাদেশে মোট ৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেও বিক্ষোভ হয়েছে।

ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা জানান, কিছু সদস্য রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে ঢুকে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় জড়িত ছিল— যা সরকারের ইসরায়েল-সমর্থন নীতির প্রতিবাদ হিসেবে করা হয়েছে। এরপরেই ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানানোয় ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও লন্ডনে এমনই এক বিক্ষোভ থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শনিবার লন্ডনে গ্রেপ্তারের আগে, প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাশে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার মূর্তির সামনে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এই মুহূর্তে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি মামলার শুনানি চলছে, যেখানে গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। ইসরায়েল বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকার যখন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে, তখন এটি হামাস, আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস-এর মতো গোষ্ঠীর তালিকায় যুক্ত হয়। এখন থেকে সংগঠনটির সদস্য হওয়া মানে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ডের মুখোমুখি হওয়া।

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ মূলত যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি ও ইসরায়েল-সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে থাকে। সংগঠনটি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে লাল রঙ ছিটানো, অফিস বা কারখানার প্রবেশপথ আটকে রাখা বা যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো পদক্ষেপ।