সিনারের প্রতিশোধ নাকি আলকারাজই আবার

খেলাধুলা মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যা দর্শকের আবেগে আগুন ধরায়, ইতিহাসে গেঁথে থাকে চিরকাল। ৭০–৮০ দশকে টেনিসে ছিল নাভ্রাতিলোভা ও এভার্ট, এরপর বোর্গ-ম্যাকেনরো, সামপ্রাস-আগাসি, আর গত দুই দশকে টেনিসকে বর্ণিল রেখেছে ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচের মহাত্রয়ী। এখন সেই ধারাবাহিকতায় জ্বলে উঠছেন কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার।

আজ রবিবার উইম্বলডনের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন এই দুই তরুণ, মাত্র এক মাস আগেই যারা ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উপহার দিয়েছেন ইতিহাসে স্থান পাওয়ার মতো এক মহাকাব্যিক ম্যাচ। পাঁচ সেটের সেই লড়াইয়ের পর এবার ফিরতি লড়াই ইংল্যান্ডের ঘাসে। সিনারের জন্য যা প্রতিশোধের সুযোগ, আলকারাজের জন্য কিংবদন্তির কাতারে আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার মঞ্চ।

এ পর্যন্ত ১২ বার মুখোমুখি হয়েছেন আলকারাজ ও সিনার। স্প্যানিশ তরুণ ৮-৪ ব্যবধানে এগিয়ে। তবে কেবল সংখ্যাই বলে না সবকিছু—তাদের প্রতিটি লড়াই উপহার দিয়েছে চমক, ক্লাসিক এবং শিরায় শিরায় টান টান উত্তেজনা।

এবারের ফাইনাল ঘিরে আলকারাজ বলেন, ‘আমরা দুজন যা করছি, তা টেনিসের জন্য দুর্দান্ত। একসঙ্গে ফাইনাল খেলছি, মানুষকে আকৃষ্ট করছি—এটাই বড় ব্যাপার।’ অন্যদিকে, সিনার বরং একটু সাবধানী, ‘ছয়টা গ্র্যান্ড স্লাম মাত্র দেড় বছরের গল্প। ফেদেরার-নাদালদের সঙ্গে তুলনা এখনই করা যায় না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বাড়বে, ততই খেলাটার মঙ্গল।’

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা সিনারের তিনটি গ্র্যান্ড স্লামই এসেছে হার্ড কোর্টে। আলকারাজের সাফল্য বরং লাল মাটি ও ঘাসে। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আলকারাজ উইম্বলডনে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে থাকলেও অতীত দেখায়, এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে ব্যবধান সূক্ষ্ম—দিনটা কেমন যাচ্ছে? কে চাপ সামলাতে পারছে? কোন সিদ্ধান্তে কে সফল? সেই নির্ভরতায় গড়ায় ফলাফল।

সিনার বলেন, ‘ফরাসি ওপেনের হার আমার মাথায় থাকলে আমি হয়তো আরেকটা ফাইনালে পৌঁছাতেই পারতাম না। আলকারাজ এখানে ফেভারিট, দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি, নিজের সীমা কতদূর, তা জানার জন্য মুখোমুখি হতে মুখিয়ে আছি।’

অন্যদিকে আলকারাজ বলছেন, প্যারিসে পাওয়া মানসিক সুবিধা এবার থাকবে না, কারণ সিনার পরাজয় থেকে দ্রুত শিখে নেয়। ‘আমার মনে হয়, এবারও একটানা সীমানায় চলা ম্যাচ হবে। আবার পাঁচ ঘণ্টা খেলে ফেলি না যেন!’—হাস্যরসের ভঙ্গিতেই কথাটা বলে শেষ করলেন।

ফেদেরার-নাদাল যুগের পর নতুন এক দ্বন্দ্বের সূচনা কি ঘটেছে? হয়তো সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে সময় লাগবে আরও, কিন্তু উইম্বলডনের আজ রবিবারে যেটা নিশ্চিত—বিশ্ব টেনিস সাক্ষী হতে যাচ্ছে আরেকটা সোনালি অধ্যায়ের।