খুলনায় হত্যার তিনদিন আগে থেকেই খুনিদের নজরদারিতে ছিলেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহবুব। হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল ১১টা থেকে একটি মোটরসাইকেলে খুনিরা মাহবুবের বাড়ির সামনেও কয়েকবার টহল দিয়েছিল। দুপুর দেড়টার দিকে মাহবুব যখন তার প্রাইভেটকার ধোয়ামোছা করছিল ওই সময়ই তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চরমপন্থি দলের সোর্স সজল শেখ (২৮) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে রবিবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার সজল শেখকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদুজ্জামানের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
নগরীর দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, মাহবুব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সজল শেখকে মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকার সাহেব আলী শেখের ছেলে।
ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজল শেখ জানায়— তিনি চরমপন্থি দলের সোর্স হিসাবে কাজ করেন। যুবদল নেতা মাহবুব হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি জড়িত ছিল না। তবে ঘটনার সময় আশপাশে নজরদারিতে নিয়োজিত ছিলেন। মাহবুবের বাড়ির অদূরে একটি চায়ের দোকানে বসে তিনি তার অবস্থানের তথ্য খুনিদের জানিয়েছিলেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল আরোহী তিন দুর্বৃত্ত মাহবুবকে গুলি ও দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
জিজ্ঞাসাবাদে সজল শেখ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তিন দিন আগে থেকেই খুনিরা মাহবুবের ওপর নজরদারি রেখেছিল। হত্যাকাণ্ডের দিন শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে একটি মোটরসাইকেলে তারা মাহবুবের বাড়ির সামনেও কয়েকবার টহল দিয়েছিল। দুপুর দেড়টার দিকে নিরিবিলি পরিবেশে মাহবুব যখন তার প্রাইভেটকার ধোয়ামোছা করছিল ওই সময়ই তাকে হত্যা করা হয়।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজল শেখ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো বলা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, দুই দিন রিমান্ড মঞ্জুরের পর রবিবার থেকেই সজল শেখকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ‘খুলনায় অব্যাহত খুন, সন্ত্রাস ও মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার প্রতিবাদে’ রবিবার বিকাল ৪টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি।
এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন আমরা কেউই নিরাপদ নেই, খুলনাবাসী নিরাপদে নেই, আমরা আজ নিরাপত্তাহীন। গত দশ মাসে খুলনায় ২৭টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় খুলনা মহানগরীতে কেএমপির কর্মকাণ্ড আছে বলে মনে হয় না। এভাবে একটি প্রশাসন চলতে পারে না।
তারা বলেন, যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমানকে কারা হত্যা করেছে— তা পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু এখনও খুনিরা ধরা পড়েনি। আমরা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা।
বক্তৃতা করেন, বিএনপি মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।