পঞ্চগড়ে পুলিশের এসআই পরিচয়ে চাঁদা দাবি করতে গিয়ে মিজানুর রহমান (২৮) নামে সদর থানার এক কনস্টেবল আটক হয়েছেন। এসময় ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া শরিফুল ইসলাম (৩০) নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। রবিবার বিকালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
আটক কনস্টেবল মিজানুর রহমানের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বৈদ্যনাথপুর এলাকায় এবং শরিফুল ইসলামের বাড়ি পঞ্চগড় উপজেলার সদরের সাতমেরা পেলকুজোত এলাকায়। রাতেই তাদের থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে সদর উপজেলার বলেয়া পাড়া এলাকায় তিনজন সড়কের পাশে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। এসময় আটক কনস্টেবল মিজানুর রহমান সদর থানা পুলিশের এসআই পরিচয় দেন এবং শরিফুল ইসলাম নিজেকে ডিবি পুলিশের সোর্স পরিচয় দেন।
তারা জানান, সদর থানায় কিছুক্ষণ আগে মিটিং হয়েছে ক্যাসিনো গেমের বিরুদ্ধে। যদি কাউকে খেলায় পাওয়া যায় তাহলে আটক করা হবে। পরে তারা একজনকে ক্যাসিনো খেলার অভিযোগে হাতকড়া পরিয়ে মোটরসাইকেলে তুলেন। পরে আটক ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এসময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে মিজানুর ও শরিফুলকে আটক করে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আল আমিন, সদর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই কাইয়ূম আলীসহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় তাদের সেনা সদস্যদের হাতে তুলে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দিতে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবির পর তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তাদের আটক করেন স্থানীয়রা। কয়েকদিন আগেও পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান দুই জনের কাছে চাঁদা নিয়ে গেছেন বলে শুনেছি।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, আটক পুলিশ কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আরেকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।