'কুল' পালমার খেললেন আগুন ঝরানো ফাইনাল, চেলসি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

চেলসির তরুণ তারকা কোল পালমার যেন বরফ শীতল মাথায় খেললেন আগুন ঝরানো এক ম্যাচে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রোববার ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে প্যারিস সেইন্ট জার্মেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচে জোড়া গোল করেন পালমার, অ্যাসিস্টও করেন একটি—ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচ মানেই কোল পালমার!

২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমের মধ্যে মাঠে নামা খেলোয়াড়দের জন্য যেখানে ছিল শারীরিক কষ্টের পরীক্ষা, সেখানে পালমার যেন ছিলেন এক শীতল নায়ক। ম্যাচের ২২তম মিনিটে বাঁ পায়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি, আর ৩০ মিনিটে আবারও বল জড়ান জালের ঠিক নিচু বাঁ কোণায়। ৪৩ মিনিটে তার নিখুঁত ফ্লিকে জোয়াও পেদ্রো দলের তৃতীয় গোলটি করেন।

এই পারফরম্যান্সের জন্য টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে পালমারের হাতে। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, “আমি ফাইনাল ম্যাচ পছন্দ করি, আজও সেটার প্রমাণ মিলল। ম্যাচ শুরুর আগে অনেকে আমাদের জেতার সম্ভাবনাই দেখেনি, কিন্তু আমরা জানতাম কী করতে হবে।”

ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমিতে বেড়ে ওঠা পালমার ২০২০ সালে ক্লাবটির হয়ে সিনিয়র দলে অভিষেক করলেও মাঠে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় ২০২৩ সালে পাড়ি জমান চেলসিতে। মাত্র এক মৌসুমেই তিনি হয়ে উঠেছেন ব্লুজদের নতুন নায়ক। চলতি বছরের মে মাসে কনফারেন্স লিগ ফাইনালে রিয়াল বেটিসকে ৪-১ গোলে হারানো ম্যাচেও ম্যাচসেরা ছিলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।

চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা বলেন, “আমরা আজ কোলকে এমন জায়গায় খেলিয়েছি, যেখানে তার সামনে বেশি জায়গা ছিল আক্রমণের জন্য। সে সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে। তবে পুরো দলই দারুণ খেলেছে।”

ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজি দুর্দান্ত এক মৌসুম শেষে ফাইনালে এলেও কোল পালমারের বিস্ফোরক প্রথমার্ধের সামনে যেন পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে বসে। ম্যানচেস্টার সিটির আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পর চেলসি এবারের বিশ্বকাপজয়ী ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে নিজেদের নতুন উচ্চতায় তুলে নিল।