ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হওয়াটাই প্রকৃত জয়—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, শুধু পরমাণু স্থাপনাগুলো নয়, ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল গোটা ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া।
গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক) কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, ‘সিয়োনিস্টদের লক্ষ্য শুধু পরমাণু কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা একটি বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছিল—সরকার পরিবর্তন এবং গোটা শাসন কাঠামো ভেঙে ফেলা।’
তিনি বলেন, যুদ্ধে কে জয়ী আর কে পরাজিত, তা বোঝার জন্য শুধু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা নয়, বরং দেখতে হবে কে তাদের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করেছে।
ঘারিবাবাদির ভাষায়, ‘যদি আমরা এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখি—যে শাসনব্যবস্থা ভেঙে ফেলা ছিল সিয়োনিস্টদের প্রধান লক্ষ্য—তাহলে বোঝা যাবে কে জিতেছে, কে হেরেছে। শুধু লোক মারা গেছে, বিল্ডিং ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে—কে তাদের মূল লক্ষ্য ছুঁতে পেরেছে?’
তিনি সাফ জানান, ইসরায়েল তাদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
গত মাসে এক বিস্ফোরক বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরানের ওপর সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির জনগণকে ‘সরকার উৎখাতের সুযোগ’ করে দেওয়া হচ্ছে।
১৬ জুন ইরান ইন্টারন্যাশনালের উপস্থাপক পোরিয়া জেরাতির সঙ্গে আলাপে নেতানিয়াহু বলেন, ‘একটি আলো জ্বলে উঠেছে—তাকে ধরে এগিয়ে যাও স্বাধীনতার দিকে। সময় এসে গেছে। স্বাধীনতার ঘণ্টা বেজে গেছে—এটা এখনই ঘটছে।’
তিনি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ‘এটা ভালো বনাম মন্দের লড়াই। এখন সময় এসেছে ভালো মানুষদের একজোট হওয়ার—ইরানের সাধারণ ভালো মানুষদের, এবং সারা বিশ্বের ভালো মানুষদের, এই উন্মাদনা আর সহ্য করা যাবে না। এটা শেষ হতে চলেছে।’
ইসরায়েল যেখানে এই অভিযানকে শাসন পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, সেখানে ইরান বলছে—এই উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়াই বোঝায়, ইসরায়েল পরাজিত হয়েছে। দুই পক্ষের ভাষ্য থেকে স্পষ্ট, যুদ্ধটা কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়—বরং এক গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংঘাত, যেখানে লক্ষ্য ছিল গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সংঘাতের পরবর্তী ধাপ কী?