রাশিয়ার নভোভারোনেঝ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয় নম্বর ইউনিটে চালু হয়েছে পরীক্ষামূলক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অপারেটর ইনফর্মেশন সাপোর্ট সিস্টেম (OISS)। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটিই বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মডেল হিসেবে বিবেচিত।
এই OISS প্রযুক্তি এমনভাবে কাজ করে, যেখানে পাওয়ার ইউনিটে কোনো প্যারামিটারে হঠাৎ পরিবর্তন এলে তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে অপারেটিং কর্মীদের সতর্ক করে দেয়। সম্ভাব্য কোনো বিচ্যুতি এবং তার ফলে ঘটতে পারে এমন বিপদের পূর্বাভাসও এটি আগাম দিতে সক্ষম। সিস্টেমটির মাধ্যমে প্রায় ৩০ মিনিট আগেই এমন পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব, যা সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
নতুন প্রজন্মের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৩৬০টি প্রক্রিয়াগত সিস্টেম, দুই শতাধিক ইন্টারঅ্যাকটিভ স্কিম এবং বিশটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে OISS। এর ফলে অপারেটরের ওপর তথ্য বিশ্লেষণের চাপ অনেকটাই কমে আসে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিটের কার্যক্রমে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। যদি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিট অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর ফলে কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এমন একটি ইউনিট প্রতিদিন গড়ে ২৪.৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা চারজনের একটি পরিবারের জন্য মাসব্যাপী ব্যবহারের উপযোগী বিদ্যুৎ যোগাতে সক্ষম ১ লাখটি ফ্ল্যাটে।
প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক ম্যাক্সিম টাচকভ বলেন, ‘OISS একটি বিমূর্ত মডেল নয়, বরং এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত প্যারামিটার অনুযায়ী রিয়েলটাইমে কাজ করে এমন একটি ডিজিটাল কপি। আগে অপারেটরদের ১২ হাজারের বেশি সেন্সরের ডেটা বিশ্লেষণ করতে হতো এবং দীর্ঘ কারিগরি নথি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হতো। এখন OISS এই তথ্যগুলো রেগুলেটরি ডকুমেন্ট অনুসারে বিশ্লেষণ করে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।’
উল্লেখ্য, নভোভারোনেঝ প্রকল্পে ২০১৪ সাল থেকেই OISS প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।