‘আমি তো আপিল করেছিলাম!’ – রান আউট না দেখে ক্ষুব্ধ প্যাট কামিন্স

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জয়ের খোঁজে থাকা অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে পেয়েছে কিছু সাফল্য, তবে আলোচনার কেন্দ্রে এক অন্য ঘটনা।

অভিযোগ—জন ক্যাম্পবেল রান আউট ছিলেন, কিন্তু থার্ড আম্পায়ার তা খতিয়ে দেখেননি!

জ্যামাইকার কিংস্টনে বলটি ঠেলেই দৌড় দিয়েছিলেন ডানহাতি ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। মিড অফ থেকে এক হাতে স্টাম্প ভেঙে দেন প্যাট কামিন্স। তখন মনে হচ্ছিল, ক্যাম্পবেল অনায়াসে পা রেখে দিয়েছেন। তাই স্বাভাবিক কোনো আপিল হয়নি অজিদের পক্ষ থেকে।

কিন্তু পরে রিপ্লেতে দেখা যায়—ব্যাটটি পপিং ক্রিজ পেরোলেও মাটিতে স্পর্শ করেনি, বরং খানিকটা লাফিয়ে উঠেছিল। ঠিক সেই সময়েই স্টাম্প উপড়ে দেন কামিন্স।

পরের বলেই আম্পায়ার নীতিন মেননের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান কামিন্স, 'আমি তো আপিল করেছিলাম। তাহলে কেন উপরে পাঠানো হলো না?'

খুবই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ৩০ সেকেন্ডের মতো চলা কথোপকথনে কামিন্স আরও বলেন, 'কমপক্ষে দেখিয়ে তো দিতে পারতেন! দেখানো যেত রিভিউয়ে। আপনি নিশ্চিত ছিলেন?'

অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের কথায় উঠে আসে ক্রিকেটীয় যুক্তিও—ক্রিজ পেরোলেও ব্যাট বা শরীর মাটিতে না থাকলে সেটি ‘গ্রাউন্ড’ হওয়া নয়, যেটি এমসিসি-এর নিয়মেও স্পষ্ট।

থার্ড আম্পায়ার রিচার্ড কেটলবারো আদৌ বিষয়টি নজরে এনেছেন কি না, তা নিয়েও সংশয়। ওভারথ্রোতে পাওয়া বাড়তি চার রানসহ ক্যাম্পবেল টিফিন বিরতিতে যান অপরাজিত ৩১ রানে। এই ইনিংস যদি দীর্ঘায়িত হয়, অস্ট্রেলিয়া শিবিরে এই বিতর্ক আরও রূপ নেবে—এমনটাই আশঙ্কা।

তবে রান আউট না পেলেও বলের সুইং ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন কামিন্স ও হ্যাজলউড। ব্র্যান্ডন কিংকে ইনসুইংয়ে এলবিডব্লু করেছেন হ্যাজলউড। রোস্টন চেইসকে স্লিপে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেছেন কামিন্স নিজেই—একটি লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে।

৩–০ তে সিরিজ জিতলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৭ এর যাত্রা দারুণভাবে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার।

এই ম্যাচে নাথান লায়নকে ফিট থাকা সত্ত্বেও বসিয়ে চার পেসার নিয়ে নামা অজিদের পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, সেটাও দেখার বিষয়। তবে যত কিছুই হোক, দিনের আলো ফুরানোর আগেই আলোচনায় থাকবে প্যাট কামিন্সের সেই প্রশ্ন, 'আমি তো আপিল করেছিলাম, তাহলে দেখা হলো না কেন?'