স্পেনের বিখ্যাত সমুদ্রসৈকতগুলোতে বেড়েছে বিদেশি পর্যটকের ঢল। এতে দেশটির উপকূলীয় এলাকার বেড়েছে হোটেল ভাড়া ও অন্যান্য খরচ। এমন ব্যয়বহুল পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় সৈকতগুলোতে স্প্যানিশদের ছুটি কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তারা ছুটি কাটাতে গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকাকে বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরকারি তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালে স্পেনের উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় স্প্যানিশ পর্যটক কমেছে প্রায় ৮ লাখ, যেখানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৯.৪ লাখ।
ফ্রান্সের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক পর্যটকের দেশ স্পেন চলতি বছর রেকর্ড ১০ কোটি বিদেশি আগমনের আশা করছে।
২৬ বছরের ওয়েন্ডি দাভিলা, যিনি উপকূল এলাকা কাদিসে প্রেমিকের সঙ্গে ছুটির পরিকল্পনা বাতিল করে কম খরচের বার্গোস শহরকে বেছে নিয়েছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। স্প্যানিশ উপকূল এখন খুব ব্যয়বহুল।’
স্পেনের মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ৮০ লাখের মতো হলেও প্রতিবছর প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক বিদেশি পর্যটক আসে। দেশের জিডিপির ১৩ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে।
তবে এই চরম পর্যটন বুমের ফলে আবাসন সংকট এবং স্থানীয়দের নিজ দেশে ছুটি কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়ায় অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য সংস্থা ম্যাব্রিয়ান বলছে, গত তিন বছরে হোটেল ভাড়া গড়ে ২৩% বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রতি রাত ১৩৬ ইউরো (প্রায় ১৫৯ ডলার)।
সৈকত সংলগ্ন হোটেল ভাড়া ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০.৩% বেড়েছে বলে জানিয়েছে মূল্য নিরীক্ষক সংস্থা টেকনিটাসা। অধিকাংশ হোটেল আগেই বুকিং হয়ে যাচ্ছে।
ইনএটলাস নামে আরেকটি পরিসংখ্যান সংস্থা জানিয়েছে, বিদেশিরা সৈকতে গড়ে ৮ রাত থাকেন। তার বিপরীতে স্প্যানিশরা অর্ধেক সময় থেকে খরচ করেন চার ভাগের এক ভাগ।
ভিড় এড়িয়ে পাহাড় ও গ্রামাঞ্চলের পথে
রয়টার্স জানিয়েছে, স্প্যানিশরা বড় শহরগুলোতেও এবার কম ভ্রমণ করেছেন। ২০২৪ সালে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ কম সফর হয়েছে। বিপরীতে বিদেশি পর্যটক বেড়েছে প্রায় ৩০ লাখ।
এই পরিস্থিতিতে স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার চাইছে বিদেশি পর্যটকদের শহর ও সৈকত ছেড়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য আবিষ্কারে উৎসাহ দিতে। জুনে একটি নতুন প্রচারণা শুরু করেছেন পর্যটন মন্ত্রী জর্দি হেরে।
স্থানীয়রা ঝুঁকছেন কম পরিচিত অঞ্চল যেমন আন্দালুসিয়া বা কাস্তিয়ায় ঘুরতে যাচ্ছেন, যেখানে দাম কম এবং ভিড়ও কম। গত বছর প্রায় ১৭ লাখ বেশি স্প্যানিশ এসব অপেক্ষাকৃত সস্তা গ্রামীণ এলাকায় ছুটি কাটিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, সমুদ্র থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে পাহাড়ি শহর এল বুসকেতে স্প্যানিশ পর্যটক বেড়েছে ২২%।
মাদ্রিদভিত্তিক বিজনেস কলেজের গবেষক হুয়ান পেদ্রো আজনার বলেন, ‘স্প্যানিশদের ক্রয়ক্ষমতা ব্রিটিশ বা জার্মান পর্যটকদের তুলনায় কম হওয়ায় এ ধরনের ‘স্থানান্তর প্রভাব’ দেখা যাচ্ছে।’