বাড়িতে ডাকাতির সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নববধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় নববধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে ডাকাত দল। গত রবিবার গভীর রাতে উপজেলার টিয়াখালী এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ওই নারীর স্বামী এ ঘটনায় মামলা করলে সন্দেহভাজন দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। তবে ডাকাত দলের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলায় একের পর এক ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করলেও পুলিশি তৎপরতা বাড়েনি। স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ও এলাকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন রাত আড়াইটার দিকে জানালার গ্রিল কেটে সাত থেকে আটজনের সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। শিশুসহ ঘুমন্ত সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় ওই নারীর কক্ষে তার স্বামীকে হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে রেখে চারজন মিলে ধর্ষণ করে। পরে ঘরে থাকা ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।

পর দিন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, ডাকাত দলের সবাই কালো কাপড়ে মুখ বাঁধা ছিল। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও চাপাতি ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে আলমারি ও শোকেসের চাবি কেড়ে নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, একতলা ভবনের বারান্দার গ্রিল কেটে ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। তাকে ও তার স্ত্রীকে বেদম মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।

নিজাম ও নাসির তালুকদার নামের স্থানীয় দুই ব্যক্তি বলেন, ডাকাতির সঙ্গে শ্লীলতাহানির এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরেক জন স্থানীয় জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে একাধিক ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। প্রতি রাতে আতঙ্ক ও উদ্বেগ নিয়ে নিদ্রাহীন সময় কাটছে। মাসের পর মাস এই অবস্থা চলছে। কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। উপজেলায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।