যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লাখো অভিবাসী এখন কঠোর অভিবাসন নীতির মুখোমুখি, যাদের অনেকেই বৈধ স্ট্যাটাসে থেকেও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় বহিষ্কার কর্মসূচি’ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
নতুন করে টার্গেটে এসেছে ‘টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) পাওয়া অভিবাসীরা—যাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পালিয়ে আসা এসব অভিবাসীকে এর আগে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়ে ছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো। টিপিএস প্রোগ্রামের আওতায় তারা ১৮ মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে কাজ করার সুযোগ পেতেন, যা নিয়মিত নবায়নযোগ্য ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোমের ঘোষণায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, বর্তমানে ৭ লাখেরও বেশি টিপিএসধারীর সুরক্ষা বাতিল করে দিয়েছে প্রশাসন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাইতির প্রায় ৩.৫ লাখ, ভেনেজুয়েলার সমান সংখ্যক এবং ১১ হাজার ৭০০ আফগান নাগরিক। এছাড়া হন্ডুরাসের ৫২ হাজার ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৩ হাজার অভিবাসীও এই সিদ্ধান্তে বিপদে পড়েছেন।
এক হাইতিয়ান অভিবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কখনো অবৈধভাবে এখানে আসিনি বা অপরাধ করিনি। যদি আমাকে হাইতিতে ফেরত পাঠানো হয়, শুধু প্রার্থনা করব যেন গুলি খেয়ে মরতে না হয়।’
হন্ডুরাসের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উপপ্রধান লিওনার্দো ভালেনজুয়েলা নেদা বলেন, ‘হন্ডুরাস এখনও এত বিপুল সংখ্যক নাগরিক ফেরত নেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়।’
টিপিএস ছাড়াও মানবিক কারণে দেওয়া ‘প্যারোল’ সুবিধার আওতায় থাকা অভিবাসীরাও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। আদালতে এই অভিবাসীদের মামলার শুনানি বাতিল হচ্ছে, এবং আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টরা তাদের আটক করে ‘তাৎক্ষণিক বহিষ্কার’ কার্যক্রম শুরু করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রক্রিয়াকে আখ্যা দিয়েছেন ‘রিমুভালপালুজা’ বা ‘বহিষ্কার-উৎসব’।
জুলাইয়ের শুরুতে আইসিই-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স এক স্মারকে জানান, নতুন নীতিমতে, আদালতের পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিবাসীদের আটক রাখা যাবে—যা অনেক সময় বছর পেরিয়ে যায়। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এখন তারা জামিনের আবেদনও করতে পারবেন না।
এই কৌশল বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস সদ্য পাস করেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট, যা আগামী ৪ বছরে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, ‘টিপিএস কখনোই স্থায়ী নাগরিকত্বের পথ ছিল না। বাইডেন প্রশাসন এর অপব্যবহার করেছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তন শুধু ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি মৌলিক ও কঠোর মোড়বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরণের অভিবাসীই এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।