বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদের প্রথম প্রয়াণদিবস পালন

শহীদ আবু সাঈদের ১ম প্রয়াণদিবস ও জুলাই শহীদ দিবস -২০২৫ দিনব্যাপী পালন করেছে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী।

এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাবা, ভাই, জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা ও আহত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে ক্যাম্পাসে শোক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি পার্কের মোড় শহীদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ১নং গেটে শহীদ আবু সাঈদ তোরণ, জাদুঘর ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প এবং পার্কের মোড়ে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়  এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অতিথিরা।

এ সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

এরপর জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন দোষীদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের বীরশ্রেষ্ঠ। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিল। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ নিরীহ মানুষদের প্রতিবাদী হবার শিক্ষা দেয়। শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে এবং বর্তমান সরকারের আমলে বিচারকাজ শেষ হবে।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আবু সাঈদের আত্ম নিবেদনের রক্তিম রেখা আমাদের জাতীয় স্মৃতিতে আজও অম্লান। তার আত্মত্যাগ ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোয় বিরাজমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।

তিনি আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। আগামী বছর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

আলোচনা সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, শহীদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা আমাদের জাতির আত্মজাগরণের প্রতীকী উৎস। ইতিহাস তাকে স্মরণ রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের ও ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। শহীদ আবু সাঈদ দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ, শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা বেরোবির শিক্ষার্থী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সভায় বক্তব্য রাখেন।

সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের অবদানের উপর দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া রক্তদান কর্মসূচি, চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা, জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

উল্লেখ্য, জুলাই শহীদ দিবস ও আবু সাঈদের ১ম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ড্রোন শোর আয়োজনের কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।