যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি সংস্কার, ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ ঘোষণা

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে যুগান্তকারী সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ভোটারদের বয়স কমিয়ে ১৬ বছর করতে যাচ্ছে দেশটি। এই পদক্ষেপকে ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো সংসদের অনুমোদনের অপেক্ষায়। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী তরুণদের জন্য আরও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। তাদের অনেকে ইতোমধ্যে যেকোনো কর্মক্ষেত্রে বা সেনাবাহিনীতে রয়েছে।

এই প্রস্তাবের ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভোটাধিকার বিষয়ক নিয়ম একই রকম হবে। কারণ স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে তরুণ ভোটাররা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

এক বিবৃতিতে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেন, ‘আমরা অংশগ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে দিচ্ছি যাতে আরও বেশি মানুষ যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।’

এই সংস্কারের অংশ হিসেবে ভোটার আইডির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে। এখন থেকে যুক্তরাজ্য কর্তৃক ইস্যু করা ব্যাংক কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ভেটেরান কার্ডের ডিজিটাল সংস্করণকেও বৈধ ভোটার পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হবে, যাতে আরও বেশি মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

বিদেশি হস্তক্ষেপ ও প্রার্থীদের প্রতি হয়রানি রোধে সরকার রাজনৈতিক অনুদানের নিয়ম আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ—যা ২০০১ সালের পর সবচেয়ে কম বলে এক সংসদীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সরকার ভোটার নিবন্ধন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্যানুসারে, যেসব দেশে ভোটের বয়স ১৬ করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচনের ফলাফলে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং দেখা গেছে, ১৬ বছর বয়সীরা ১৮ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি ভোট দিয়ে থাকে।

ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যেই জনসমর্থন হারাতে থাকা লেবার পার্টি পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিল তারা নির্বাচিত হলে ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করবে।