মানুষের জীবনে সবচেয়ে গভীর ও বিধ্বংসী কষ্ট স্বজন হারানো। যাকে আমরা ভালোবাসি, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যার সান্নিধ্য আমাদের প্রেরণা জুগিয়ে এসেছে, হঠাৎ তাকে না পাওয়া মানেই এক অন্তহীন শূন্যতার মুখোমুখি হওয়া। এই শোকের ভাষা নেই, সান্ত্বনার ভাষাও সীমিত। এই হৃদয়বিদারক মুহূর্তে কারও একটি মমতামাখা শব্দ, একটু সহানুভূতির ছোঁয়া বা একটি আশাব্যঞ্জক দোয়া হয়ে উঠতে পারে বেদনার উপশম, শোকের আশ্রয়। এক্ষেত্রে নবী করিম (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তিনি বিভিন্নভাবে স্বজন হারানো পরিবারকে সান্ত্বনা দিতেন।
দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি ধাপে কীভাবে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়, তা নবী করিম (সা.) শিখিয়ে গেছেন। স্বজন হারানো মানুষের বুকচেরা কষ্ট তিনি নিজের হৃদয়ে অনুভব করতেন। তিনি স্বজন হারানো দুঃখিত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতেন, দোয়া করতেন, রান্না করা খাবার খাওয়াতেন। তার এই আচরণ ছিল গভীর মানবতা, দায়িত্ববোধ ও মহত্ত্বের অনন্য প্রকাশ। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়বে, নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া করবে।
বিশ্বনবীর জীবনের এই অধ্যায় আমাদের শেখায়, শোকের সময় পাশে দাঁড়ানো কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং এটি ইমানদারির পরিচায়ক। এমনকি তিনি শিখিয়েছেন, সন্তান হারানোর মতো নির্মম বেদনায়ও যদি কেউ ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, তবে সেই সন্তান জান্নাতে তার জন্য সুপারিশকারী হবে। সন্তানহারা নারীদের বিশেষভাবে সান্ত্বনা দিতেন নবীজি (সা.)। তিনি বলতেন, তিনটি সন্তান আগেই মারা গেলে তারা মায়ের জন্য জাহান্নামের রক্ষাকবচ হবে। এক নারী বললেন, দুটি হলে? নবীজি (সা.) বললেন, দুটি হলেও। (সহিহ বুখারি)
নবীজি (সা.) এমনও করেছেন যে, কোনো মুমিন ঋণ রেখে মারা গেলে তার দায়ভার নিজে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুমিনের কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে, তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে সম্পদ রেখে যাবে, তা তার ওয়ারিশ পাবে। (সহিহ বুখারি)