শিশুদের জ্বর ও খিঁচুনি সাধারণ ঘটনা। সাধারণত ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের উচ্চ জ্বরের কারণে এ ধরনের খিঁচুনি হতে পারে। এটি মস্তিষ্কের অপরিণত অবস্থার কারণে হয় এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেরে যায়।
কেন হয়
উচ্চ জ্বর : শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ প্রভাবিত হয়ে এমন হয়।
সংক্রমণ : জ্বর সৃষ্টিকারী ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ (যেমন ফ্লু, কানের সংক্রমণ, মেনিনজাইটিস, এনকেফালাইটিস ইত্যাদি)।
পারিবারিক ইতিহাস : পরিবারের কারও জ্বরজনিত খিঁচুনির ইতিহাস থাকে, শিশুরও হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
টিকা : কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার পর জ্বরের কারণেও খিঁচুনি হতে পারে।
লক্ষণ
হঠাৎ করে শিশুর হাত-পা বাঁকা হয়ে কাঁপা শুরু করা।
চোখ উল্টে যাওয়া বা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা। দাঁতে দাঁত লেগে যাওয়া। মুখ থেকে ফেনা বের হওয়া। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা। কিছুক্ষণ পর শিশু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া বা ঘুমিয়ে পড়া।
করণীয়
শিশুকে নরম কোনো কিছুর ওপর বাঁ পাশে কাত করে শুইয়ে দিন, যাতে মুখ থেকে লালা বা বমি বেরিয়ে যেতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ না হয়। আশপাশের আঘাতের কারণ হতে পারে, এমন বস্তু সরিয়ে ফেলুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে শিশুর আঁটসাঁট পোশাক খুলে দিন। দাঁতের ফাঁকে চামচ, আঙুল বা অন্য কোনো বস্তু দেবেন না। এতে শিশুর দাঁত বা জিহ্বায় আঘাত লাগতে পারে। খিঁচুনির সময় শিশুকে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না। জ্বর কমানোর চেষ্টা করুন।
কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। প্যারাসিটামল সিরাপ বা সাপোজিটরি (বয়স ও ওজন অনুযায়ী) দিন। যদি শিশু খেতে না পারে বা বমির সম্ভাবনা থাকে, তবে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যেতে পারে। ১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে সাপোজিটরি বেশি উপকারী। মাথায় পানি ঢালার সঙ্গে খিঁচুনি কমার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। খিঁচুনি কতক্ষণ স্থায়ী হয় তা লক্ষ্য করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। খিঁচুনির সময়কার একটি ভিডিও করে রাখলে চিকিৎসকের জন্য শিশুর অবস্থা বুঝতে সুবিধা হবে।
কখন হাসপাতালে নেবেন
খিঁচুনি ১০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে। একই দিনে বারবার খিঁচুনি হলে। শিশুর প্রথম জ্বরজনিত খিঁচুনি হলে। শিশু নীল হয়ে গেলে। বমি হলে। শিশু অজ্ঞান হলে বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে। বয়স ৩ মাসের কম হলে। শুধু জ্বরজনিত খিঁচুনি নয়, অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার কারণে হচ্ছে।
চিকিৎসা
চিকিৎসক শিশুর খিঁচুনির কারণ নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেন। অনেক সময় জ্বরজনিত খিঁচুনি হলে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, কেবল জ্বর কমানোর জন্য ওষুধ দেওয়া হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে, মেনিনজাইটিস বা এনকেফালাইটিসের মতো গুরুতর সংক্রমণ বাতিল করার জন্য কিছু পরীক্ষা (যেমন : রক্ত পরীক্ষা, লাম্বার পাংচার, ইইজি) করার প্রয়োজন হতে পারে। যদি শিশুর বারবার খিঁচুনি হয়, তবে চিকিৎসক প্রতিরোধমূলক ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন। মনে রাখবেন, শিশুর জ্বর ও খিঁচুনি হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কোনো প্রকার সন্দেহ হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।