জোয়ারের পানিতে সড়কের নিচে মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়েছে স্ল্যাব। ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যায় সড়কটি। ঘাটের পূর্ব পাড়ের সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে তা পরিণত হয়েছে দুর্ঘটনার ফাঁদে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ সেই ফাঁদের ওপর দিয়েই চলাচল করছেন, অথচ কাছাকাছি নেই কোন বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া-চরইমারশন খেয়াঘাট এখন এক নির্মম চিত্রের নাম। এ যেন দেখেও না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা বলছেন, এই খেয়াঘাট দিয়েই উপজেলার বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের সঙ্গে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের সরাসরি যাতায়াত হয়ে থাকে। বিশেষ করে চরইমারশন, মৌডুবি ও বড়বাইশদিয়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট ব্যবহার করে উপজেলা সদর, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। অথচ, ভেঙে যাওয়া পূর্বপাড়ের এই সংযোগ সড়কপথ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভাঙা ঢালু স্ল্যাবগুলো বিপদজনক অবস্থায় নদীতে হেলে পড়েছে। হাঁটা-চলা তো দূরের কথা, যাত্রীবাহী নৌকা বা মালামালবাহী যানবাহন ওঠানামা করানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ঘাটের যাত্রী ছাউনিতে বসা কয়েকজন যাত্রী বলছেন, খেয়াঘাটের দু’পাশেই কয়েক বছর আগে নির্মিত হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনিসহ ঘাট। নদীপথে চলাচলকারী মানুষজন কিছুটা স্বস্তি পাবেন ভেবেই ছিল সেই উদ্যোগ। কিন্তু এখন সেসব কাঠামো কেবল একটি ফটো তোলার জায়গা হয়েই আছে। পূর্ব পাড়ের ঘাট দিয়ে যাত্রী ওঠা নামাও এখন চরম ঝুঁকি। ফেরদাউস নামের খেয়াঘাটের এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষা এলেই নদীর স্রোতে ভাঙন শুরু হয়। ঘাট ও সংযোগ সড়কের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় প্রতিবছরই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়, কিন্তু এবার তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। এটি রাঙ্গাবালীর অন্যতম প্রবেশ পথের একটি অংশ বলা চলে। অথচ ব্যবস্থাপনার অভাবে এটি এখন মৃত্যু ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোড়ালিয়া বাজারের আল-আমিন নামের একজন পল্লী চিকিৎসক বলেন, দীর্ঘদিন যাবত দুর্ভোগের শিকার লোকজন। তবুও প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ী ও চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষ। শিক্ষার্থী ও রোগীরাও ঝুঁকির মধ্যে পারাপার হচ্ছেন। তাছাড়া চরইমারশনে কোন সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই খেয়া পাড় হয়ে ছোটবাইশদিয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা এমনকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠগ্রহণ করতে গিয়ে থাকেন পথ ধরে।
খেয়াঘাটর সংলগ্ন চরইমারশন বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী অভিভাবক আনোয়ার দফাদার বলেন, তাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করে এই ঘাট পার হয়ে। শিশুরা এই সড়কে প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
এ সময় আরেক অভিভাবক বেল্লাল প্যাদা বলেন,আমার মেয়ে স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন ভয়ে থাকি, কখন কী হয়। একটু বৃষ্টি হলেই ঘাটের এই রাস্তাটির চরম ঝুঁকি বেড়ে যায়। ছোট বাচ্চারা কেমন করে পার হয়, তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।
এ বিষয়ে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল পাশা বলেন, খেয়াঘাটের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ সড়কটির সংস্কারের জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। কাজটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসী খেয়া পারাপারে যেভাবে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি পোহাচ্ছে, তা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আমরা সবসময়ই সচেষ্ট ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, কোড়ালিয়া-চরইমারশন খেয়াঘাটের সংযোগ সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি অনুমোদন করেছে এবং বর্তমানে তা টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কাজটি বাস্তয়িত হলে খেয়া পারাপারে দুর্ভোগ ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবে লোকজন।